প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভালোবাসার জন্য মানুষ কী–না করতে পারে! এই যেমন আর্জেন্টিনার এই তিন তরুণ সাইক্লিস্টের কথাই ভাবুন না।
জাতীয় দলের প্রতি অসীম ভালোবাসা আর সমর্থনের নজির গড়েছেন মিগেল সিলিও, ভিসেন্তে কনকুলিনি ও ইয়ামান্দু মার্তিনেজ। প্রায় ৩০০ দিনে ১৭ হাজার কিলোমিটার সাইকেল চালিয়ে তারা পৌঁছেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কানসাসে। সেখানে বর্তমানে বিশ্বকাপের জন্য ঘাঁটি গেড়েছে আর্জেন্টিনা দল।
তাদের এই অবিশ্বাস্য যাত্রার সূচনা হয়েছিল গত আগস্টে আর্জেন্টিনার এন্ত্রে রিওস প্রদেশের গুয়ালেগুয়াইচু শহর থেকে। তখনী বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ড্র–ই অনুষ্ঠিত হয়নি, ফলে আর্জেন্টিনা দল কোথায় অবস্থান করবে বা কোথায় খেলবে, সেটা কারোরই জানা ছিল না। তবুও প্রিয় দলের প্রতি গভীর ভালোবাসায় তারা উত্তর আমেরিকার উদ্দেশে রওনা দেন। যাত্রাপথে তারা ১৭টি দেশ অতিক্রম করেন।
এমনকি এই দীর্ঘ যাত্রার মধুর ফলও পেয়েছেন তারা। কানসাসে পৌঁছে তারা বিশেষ সম্মানে ভূষিত হন। আর্জেন্টিনা দলের প্রধান কোচ লিওনেল স্ক্যালোনি, কোচিং স্টাফ এবং দেশটির ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্লাউদিও তাপিয়া তাদের স্বাগত জানান।
এই অসাধারণ সমর্থনের প্রশংসা করে তাপিয়া ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন, 'আর্জেন্টাইন সমর্থকদের এই রঙের প্রতি ভালোবাসা এবং বিশেষ করে ‘স্কালোনেতা’র প্রতি আবেগের কোনো সীমা নেই, কোনো সীমানা নেই। এটি তারই স্পষ্ট উদাহরণ।'
যাত্রাপথে তারা আরেক আর্জেন্টাইন ক্রীড়া কিংবদন্তি এমানুয়েল জিনোবিলির সঙ্গেও দেখা করেন। কনকুলিনির ভাষ্য অনুযায়ী, ইনস্টাগ্রামে যোগাযোগের পর তারা সান আন্তোনিওতে জিনোবিলির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। প্রথমে একটি এনবিএ সেমিফাইনাল ম্যাচ দেখেন, এরপর জিনোবিলির আমন্ত্রণে কফি ও মাতে পান করতে বসেন। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে আড্ডা চলে।
তবে পুরো সফরটি মোটেও সহজ ছিল না। ইকুয়েডরের মাচালা অঞ্চলে কারাগার দাঙ্গার সময় তারা সহিংস পরিস্থিতির মধ্যে পড়েন। আবার কলম্বিয়ায় একটি গাড়িবোমা বিস্ফোরণের ঘটনাও তাদেরকে অস্থির পরিবেশের মধ্য দিয়ে যাত্রা করতে বাধ্য করে।
সব বাধা পেরিয়ে এখন তাদের সবচেয়ে বড় চিন্তা বিশ্বকাপের টিকিট। ফিফার অফিসিয়াল বিক্রয় পর্বে পাঁচবার চেষ্টা করেও টিকিট পাননি তারা। পুনর্বিক্রয় বাজারে টিকিটের দাম অত্যন্ত বেশি হওয়ায় কিছুদিন অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে তাদের একটাই লক্ষ্য; যেভাবেই হোক আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচে উপস্থিত থাকা। এখন দেখার বিষয়, তাদের এই অসাধারণ যাত্রার স্বীকৃতি হিসেবে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয় কি না।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন