প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কুমিল্লা, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : জেলার নাঙ্গলকোট ও মনোহরগঞ্জ উপজেলায় অটোরিকশাচালকসহ দুই তরুণ হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আব্দুল ওয়াদুদ ওরফে মানিক (২৭) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, একই সঙ্গে পৃথক দুই হত্যাকাণ্ডের রহস্যও উদ্ঘাটন করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে চালকদের টার্গেট করে হত্যার ঘটনায় মানিক জড়িত ছিলেন। এ কারণে তাকে স্থানীয়ভাবে ‘সিরিয়াল কিলার’ হিসেবে পরিচিত বলে উল্লেখ করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার আব্দুল ওয়াদুদ ওরফে মানিক নাঙ্গলকোট উপজেলার নাথেরপেটুয়া এলাকার বাসিন্দা।
মঙ্গলবার সকাল ১১টায় কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফুর রহমান এসব তথ্য জানান।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, গত ১২ আগস্ট নাঙ্গলকোট থানার আটিয়াবাড়ি এলাকায় একটি অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশ মরদেহটির পরিচয় শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। নিহত ব্যক্তি ছিলেন ১৮ বছর বয়সী মো. মেহেদী, যিনি পেশায় অটোরিকশাচালক ছিলেন। মরদেহ উদ্ধারের পর হত্যাকাণ্ডের কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করে নাঙ্গলকোট থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা।
তদন্তের অংশ হিসেবে আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে পুলিশ আব্দুল ওয়াদুদ ওরফে মানিক, শাহেদ, ফাহিম ও সেলিমকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা মেহেদীকে হত্যার পর তার অটোরিকশা ছিনিয়ে নেয়ার কথা স্বীকার করে। এ ঘটনায় আব্দুল ওয়াদুদ ওরফে মানিক আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
এরই মধ্যে গত ২৪ আগস্ট নাঙ্গলকোটে মো. আরমান হোসেন (১৫) নামে আরেক অটোরিকশাচালক নিখোঁজ হন। নিখোঁজের পর তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তের এক পর্যায়ে একটি অটোরিকশা কাটা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মো. জোবায়ের হোসেন সুজন, নূর আলম ও মো. গিয়াস উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে আরমানকে অপহরণ ও হত্যার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। পরে তদন্তের ধারাবাহিকতায় আব্দুল ওয়াদুদ ওরফে মানিককে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে আরমানকে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে দাবি পুলিশের।
পুলিশ আরও জানায়, মানিকের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মনোহরগঞ্জ উপজেলার বিনয়ঘর এলাকার একটি পুকুরে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে মো. আরমান হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।
দু’টি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ বলছে, উভয় ঘটনার পেছনেই অটোরিকশা ছিনতাই ছিল প্রধান উদ্দেশ্যে। তদন্তে উঠে এসেছে, মানিক অটোরিকশাচালকদের টার্গেট করে তাদের সঙ্গে যাত্রী বা অন্য কোনো পরিচয়ে যোগাযোগ করতেন। পরে সুযোগ বুঝে চালকদের হত্যা করে অটোরিকশা ছিনিয়ে নেয়া হতো বলে পুলিশের দাবি।
পুলিশের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, শুধু মেহেদী ও আরমান হত্যাকাণ্ডই নয়, এরআগেও একই ধরনের অপরাধে মানিকের জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে শাহজাহান ওরফে সাইমন (১৭) নামে এক কিশোরকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ওই হত্যা মামলাটিও বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফুর রহমান বাসস’কে জানান, অটোরিকশা ছিনতাইকে কেন্দ্র করে সংঘটিত এসব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে মানিকের সঙ্গে আরও কোনো হত্যাকাণ্ড বা অপরাধের যোগসূত্র রয়েছে কিনা, তা জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন