প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
অনলাইন পোর্টালে অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশের জেরে এক সাংবাদিককে আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘নাক কাটা রুবেল’সহ ৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেছে পুলিশ। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ ঘটনার সত্যতা পেয়ে আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২-এর ৪ ও ৫ ধারায় এই চার্জশিট দাখিল করে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতোয়ালী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাজীব দাস সনেট সার্বিক তদন্ত ও উর্ধতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে বিজ্ঞ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (দ্রুত বিচার আদালত) আদালতে সম্প্রতি এ চার্জশিট (নং- ৪১৪, তারিখ: ২৩ জুলাই, ২০২৬) জমা দেন।
মামলার এজাহার ও তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী সাংবাদিক মো: মাছুদুর রহমান (আসলাম) এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে একটি অনুমোদিত অনলাইন নিউজ পোর্টালে ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। এরই জেরে আসামিরা তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে টানা হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছিল।
গত ২১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা অনুমান ৬:১৫ ঘটিকার সময় সাংবাদিক আসলাম তার এক সহকর্মীকে সাথে নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে কোতোয়ালী থানাধীন শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পেছনের রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে খেলার মাঠ সংলগ্ন পাকা রাস্তার ওপর পৌঁছালে তিনটি মোটরসাইকেলে এসে সন্ত্রাসী বাহিনী তাদের পথরোধ করে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ১ নম্বর আসামি মো: রুবেল শরীফ ওরফে ‘নাক কাটা রুবেল’ (৪২) প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে সাংবাদিক আসলামের মাথায় ঠেকায়। পরবর্তীতে কোনো সংবাদ প্রকাশ করলে তাকে গুলি করে হত্যা ও লাশ গুম করার হুমকি দিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে চলে যায়।
তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় যাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট প্রদান করা হয়েছে:
১.মো: রুবেল শরীফ ওরফে ‘নাক কাটা রুবেল’ (৪২), পিতা- মৃত আলতাফ হোসেন (তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী ও অস্ত্র আইনে একাধিক মামলা বিচারাধীন)।
২. মানুল ফকির ৩. জেমস তাপস পাড়ৈ (৫০) পিতা- মৃত মহানন্দ পাড়ৈ।
৪ মো: তুহিন কসাই (৩০), পিতা- মৃত আকতার কসাই।
৫. মো: রফিকুল ইসলাম ওরফে ‘গাঁজা রফিক’ (৪৭), পিতা- মো: হানিফ পেদা।
৬. মো: আসলাম (৪১) পিতা- মো: হযরত আলী।
৭. মো: কালাম হোসেন খান (৪৬), পিতা- আব্দুল আজিজ খান (সাবেক ইউপি সদস্য)।
ইসলাম (৩৮)-এর বিরুদ্ধে ঘটনার সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততার কোনো তথ্য-প্রমাণ না পাওয়ায় তদন্ত কর্মকর্তা তাকে মামলার দায় হতে অব্যাহতির (Exoneration) আবেদন জানিয়েছেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, অপরাধীদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মিললেও অপরাধে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রটি উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির লক্ষ্যে বিজ্ঞ আদালতে সাক্ষীদের সমন জারির আবেদন করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন