প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
উজানের ঢল এবং অবিরাম বৃষ্টির ফলে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মা নদীর পানি উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নদীর পানি ৭ সেন্টিমিটার বেড়ে গেছে। এদিকে চারপাশে পানি থাকায় বাসিন্দাদের মধ্যে ঘরে সাপ ঢুকে পড়ার আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার পানি বিপৎসীমার ৭৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে দৌলতপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে গেছে। এসব অঞ্চলের প্রায় ৪০ গ্রামের মানুষ চরম পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। বহু ঘরবাড়ি, গ্রামীণ রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। পানি জমে যাওয়ায় অনেক পরিবারের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।
যদি পানি বৃদ্ধির এই ধারা অব্যাহত থাকে, তাহলে দৌলতপুরের নিম্নাঞ্চলে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি ফসল, রাস্তাঘাট ও বসতবাড়ির ক্ষয়ক্ষতি বৃদ্ধি পেতে পারে। একই সঙ্গে পানিবন্দি মানুষের খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসা ও নিরাপত্তা সংকট আরও তীব্র হয়ে উঠতে পারে।
স্থানীয়দের মতে, প্রতিদিন পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এর সঙ্গে দুর্ভোগও বাড়ছে। চারপাশে পানি থাকায় ঘরে সাপ ঢুকে পড়ার আতঙ্কে বাসিন্দারা রয়েছেন। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।
পানি ঢুকে পড়ায় এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের প্রায় ৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। পানিবন্দি এলাকার শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় তাদের উপস্থিতি কমে গেছে। তবে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়নি।
এদিকে পদ্মার পানি বৃদ্ধির কারণে দৌলতপুরে প্রায় ৪৭০ হেক্টর ফসলি জমি পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এতে বিভিন্ন ধরনের ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
দৌলতপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহানা পারভীন জানান, পানিতে নিমজ্জিত ফসলি জমির পরিমাণ প্রতিনিয়ত বাড়ছে। বর্তমানে প্রায় ৪৭০ হেক্টর জমি পানির নিচে রয়েছে।
দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন, দুই ইউনিয়নের প্রায় ৪০ গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। পানিতে বাড়িঘর, রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। গত বুধবার সাড়ে ৩৫০ পরিবারের মধ্যে শুকনা খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও ওষুধ বিতরণ করা হয়েছে। নতুন করে ত্রাণের বরাদ্দও পাওয়া গেছে, যা শিগগিরই বিতরণ করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন