প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ : যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাবের খসড়ায় পরস্পর ভেটো দেওয়ার ফলে পশ্চিম সাহারায় জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীদের মিশনের মেয়াদ শনিবার শেষ হতে যাচ্ছে।
১৯৯১ সালে গঠিত মিনুরসো নামে পরিচিত এই শান্তিরক্ষা বাহিনী।
বাহিনীর ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত এতে ৩৫৯ জন বেসামরিক ও সামরিক সদস্য কর্মরত ছিলেন।
এ খবরটি জাতিসংঘ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়।
পশ্চিম সাহারা নিয়ে মরক্কো এবং আলজেরিয়ার সমর্থনপুষ্ট পলিসারিও ফ্রন্টের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মধ্যে গত ৫০ বছর ধরে সংঘাত চলমান রয়েছে।
মিশনের মেয়াদ এক বছর বাড়ানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেছিল। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের মধ্যে ১১টি দেশ এ প্রস্তাবের পক্ষে ছিল। এতে মরক্কোর স্বায়ত্তশাসন পরিকল্পনাকে কেন্দ্রীয় গুরুত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।
যদি প্রস্তাবটি গৃহীত হতো, তাহলে বাহিনীর নাম মিনুরসো থেকে পরিবর্তন করে মিনুসো করা হতো। এতে পশ্চিম সাহারার জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার নির্ধারণে গণভোট আয়োজনের বিষয়টি বাদ পড়ত।
শুক্রবার রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবটি আটকে দেয়। মস্কো এ উদ্যোগকে ‘একতরফা পদক্ষেপ’ হিসেবে সমালোচনা করে এবং পূর্বের শর্তে শান্তিরক্ষা মিশনের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য পাল্টা প্রস্তাব দেয়।
যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার প্রস্তাবে ভেটো দেয়। অন্যদিকে, মার্কিন প্রস্তাবের পক্ষে থাকা দেশগুলো ভোটদানে বিরত থাকে।
জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ বলেন, ‘নিরাপত্তা পরিষদের কয়েকটি সদস্য তাদের ভেটো ক্ষমতা ব্যবহার করে ‘আর’ অক্ষরটি—যা গণভোটের (রেফারেন্ডাম) প্রতীক—এবং এমন একটি নাম ধরে রাখতে চেয়েছে, যে গণভোট আয়োজনের প্রস্তুতি জাতিসংঘ কয়েক দশক ধরেই নিচ্ছে না।’
ফ্রান্সের প্রতিনিধি জেরোম বনাফোঁ রাশিয়ার ‘বাধা সৃষ্টির’ নিন্দা জানান। ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত সারাহ ম্যাকিনটোশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের পক্ষে সমর্থন না দেওয়া দেশগুলোকে ওই খসড়ার ভিত্তিতে সমাধান খুঁজে বের করার আহ্বান জানান।
শুক্রবার মরক্কোর রাজকীয় দপ্তর শান্তিরক্ষা মিশনের মেয়াদ না বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানায়। তারা বলেছে, এর মাধ্যমে নিরাপত্তা পরিষদের সম্পৃক্ততার অবসান হওয়া উচিত এবং বিষয়টি পরিষদের আলোচ্যসূচি থেকে বাদ পড়া উচিত।
জাতিসংঘে আলজেরিয়ার প্রতিনিধি আমার বেনজামা রাশিয়া এবং ‘এ ধরনের স্পষ্ট অবিচারের সঙ্গে যুক্ত না হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া’ সব দেশকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, আলজেরিয়া ‘সাহরাউই জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার নিশ্চিত করে—এমন সমাধানের’ পক্ষে কাজ চালিয়ে যাবে। সাহরাউইরা পশ্চিম সাহারার আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
নিউইয়র্কে পলিসারিও ফ্রন্টের প্রতিনিধি সিদি ওমরও যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় ‘সন্তোষ’ প্রকাশ করেন।
গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে নিরাপত্তা পরিষদ পশ্চিম সাহারার বিষয়ে মরক্কোর স্বায়ত্তশাসন পরিকল্পনার প্রতি নজিরবিহীন সমর্থন জানায়। আলজেরিয়ার বিরোধিতা সত্ত্বেও পরিষদ পরিকল্পনাটিকে ‘সবচেয়ে বাস্তবসম্মত’ সমাধান হিসেবে বিবেচনা করে। ২০০৭ সালে রাবাত এ পরিকল্পনা উপস্থাপন করে, যাতে বিশাল মরুভূমি অঞ্চলটির ওপর মরক্কোর সার্বভৌমত্ব বজায় রেখে স্বায়ত্তশাসন দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন