প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের দিল্লির একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের কারণে অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৮ জন বিদেশি নাগরিক বলে পুলিশ ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশের নাগরিক, নাইজেরিয়ার নাগরিক, মোজাম্বিকের নাগরিক ও লাইবেরিয়ার নাগরিক রয়েছেন বলে সিএনএন-নিউজ১৮ জানিয়েছে।
আজ বুধবার (৩ জুন) সকালে দক্ষিণ দিল্লির মালভিয়া নগর এলাকায় একটি বহুতল ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ২০২২ সালের পর ভারতের রাজধানীতে এটি অন্যতম সবচেয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন থেকে বাঁচতে হোটেলের জ্বলন্ত ভবন থেকে কয়েকজন নিচে লাফ দেন। এই সময় স্থানীয় বাসিন্দারা পাশের একটি দোকান থেকে গদিগুলো এনে রাস্তায় বিছিয়ে দেন, যেন লাফ দেওয়া মানুষদের আঘাত কিছুটা কম হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী শের খান মন্তব্য করেছেন, ‘লোকজন গদি বিছিয়ে দিয়েছিল। তৃতীয় তলা থেকে এক নারী তার ছোট শিশুকে নিয়ে সেই গদির ওপর লাফ দিয়েছিলেন।’ টেলিভিশনে প্রচারিত ভিডিও ফুটেজে এই দৃশ্য দেখা গেছে। একটি ফুটেজে দেখা যায়, ভবনটি আগুনের মধ্যে ঘেরা অবস্থায় উপরের তলা থেকে দুজন নিচে লাফ দিচ্ছেন এবং ভবন থেকে ঘন ধোঁয়া বের হচ্ছে।
প্রাথমিক উদ্ধারকাজে সহায়তা করা স্থানীয়রা জানাতে পেরেছেন, চারতলা ভবনটির নিচতলা ও প্রথম তলায় আগুন শুরু হয়। ফলে ওপরের তলাগুলোতে থাকা মানুষজন আটকা পড়ে যান।
স্থানীয় বাসিন্দা ওয়াসিম রাজা সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে বলেন, ‘এখানে একটি গদির দোকান আছে। আমরা সেখান থেকে গদিগুলো এনে রাস্তায় বিছিয়ে দিয়েছিলাম, যাতে যারা ভবন থেকে লাফ দিচ্ছিলেন তাদের সাহায্য করতে পারি।’
পুলিশ জানায়, স্থানীয় সময় সকাল ৯টার কিছু আগে ভবনে আগুন লাগতে শুরু করে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে আটটি ফায়ার সার্ভিস ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শী রয়টার্সের এক সাংবাদিক জানান, দুপুরের দিকে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং অন্যান্য জরুরি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত প্রচেষ্টায় ৪০ জনের বেশি মানুষকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নিকটস্থ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’ বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, ‘গভীর শোকের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, এই মর্মান্তিক ঘটনায় ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে।’
সরকারি অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (এআইআইএমএস)-এর একজন মুখপাত্র রয়টার্সকে বলেন, হাসপাতালটিতে ১৩ জন আহতকে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা জিতেন্দ্র কুমার সাংবাদিকদের জানান, ‘ভবনটির নিচতলায় একটি রেস্তোরাঁ পরিচালিত হচ্ছিল বলে জানা গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আগুনের সঙ্গে ওই রেস্তোরাঁর কোনো সম্পর্ক থাকতে পারে।’
এদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি বার্তায় নিহতদের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্য সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন