প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফেনী, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ : লোকসানের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া ফেনীর ঐতিহ্যবাহী দোস্ত টেক্সটাইল মিলস পুনরায় চালু করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার।
রানীরহাটে অবস্থিত মিলসটির পুনরায় চালুকরণ অথবা সেখানে আধুনিক ও টেকসই টেক্সটাইল/শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপনের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো থেকে জানা যায়, ১৯৬৫ সালে দোস্ত মোহাম্মদ নামে একজন শিল্পপতি ফেনী শহরতলীর কাজিরবাগ ইউনিয়নের রাণীরহাট সংলগ্ন স্থানে দোস্ত টেক্সটাইল মিলসটি প্রতিষ্ঠা করেন।
১৯৭২ সালে স্বাধীনতার পর এটি জাতীয়করণ করা হয়। এই প্রতিষ্ঠানটি ছিল সহস্রাধিক শ্রমিকের কর্মসংস্থানের উৎস, ফলে পুরো কাজিরবাগ এলাকা ছিল কর্মচঞ্চল।
মিলসটি থেকে উৎপাদিত সুতা একসময় বিদেশেও রপ্তানি করা হতো, যা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতো।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত মিলসটি লাভজনক ছিল, তবে ১৯৯০ সালের দিকে এটি লোকসানের মুখে পড়ে। দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর টিকে থাকার পর ২০১১ সালে তৎকালীন সরকার প্রতিষ্ঠানটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেয়।
ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক জয়নাল আবদিন ভিপি বাসসকে জানান, বিগত সরকারের সময়ে মিলসটির যন্ত্রপাতি পানির দামে নিলামে বিক্রি করা হয়। বিশাল জায়গাটি পরে ভূতুড়ে বাড়িতে পরিণত হয়, যা এখন মাদকাসক্তদের নিরাপদ আশ্রয় হয়ে উঠেছে।
তিনি গত ১৮ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী বরাবরে একটি ডিও লেটার দিয়েছেন, যাতে মিলসটি পুনরায় চালুকরণ অথবা আধুনিক টেক্সটাইল ও শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপনের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিবকে সংসদ সদস্যের ডিও লেটার অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অধ্যাপক জয়নাল আবদিন ভিপি আরও জানান, বিগত জাতীয় নির্বাচনের আগে বিএনপি চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণকে কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি আশা করেন, এখানে নতুন শিল্পায়নের মাধ্যমে হাজার হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত মে মাসে জেলা প্রশাসকের প্রতিবেদনে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বন্ধ হওয়া দোস্ত টেক্সটাইল মিলস নতুন করে চালু করার প্রস্তাব পাঠানো হয়।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে ‘সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে’ অথবা ‘বিশেষায়িত অঞ্চল’ হিসেবে এই বিশাল অবকাঠামোটিকে পুনরায় চালু করা সম্ভব হলে ফেনী তথা পুরো চট্টগ্রাম বিভাগের বেকারত্ব দূরীকরণে এটি সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে জেলা প্রশাসক আশা প্রকাশ করেন।
পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের বৈশ্বিক চাহিদা মেটাতে এবং দেশের একটি ঝিমিয়ে পড়া শিল্প সম্পদকে রাষ্ট্রীয় ও অর্থনৈতিক স্বার্থে সচল করতে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
পরবর্তীতে ২৩ জুন উক্ত প্রস্তাবটি প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ পূর্বক বাস্তবায়নের অগ্রগতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে অবহিত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিন ঘুরে ফেনী-ছাগলনাইয়া সড়কের রাণীরহাটের দোস্ত টেক্সটাইল মিলসের প্রধান ফটক পার হয়ে ভেতরে গেলে চিত্র দেখে মনে হয় না এখানে একসময়ে এত বিশাল শিল্প কারখানা ছিল।
একজন নিরাপত্তা প্রহরী জানান, গেট সংলগ্ন জীর্ণ ভবনটিতে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস রয়েছে।
প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বুলবুল আহমদের সঙ্গে কথা হলে তিনি বাসসকে জানান, গত ২৫ জুলাই তিনি এখানে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। আপাতত এই বিশাল জায়গা বুঝে নেওয়া এবং রক্ষণাবেক্ষণকে তিনি গুরুত্ব দিচ্ছেন। ভেঙে পড়া সীমানা দেয়ালগুলোতে টিনের বেড়া দিয়ে সংস্কারের চেষ্টা করছেন।
তিনি জানান, সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে মিলসটি নতুন করে চালু করার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ রয়েছে। তার মতে, সবাই আন্তরিকভাবে চেষ্টা করছেন যেকোনোভাবে এখানে নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন করতে।
এটি আগের মতো টেক্সটাইল না হয়ে অন্য কোনো শিল্পও হতে পারে।
এক্ষেত্রে পুরোপুরি সরকারিভাবে না হয়ে ‘পিপিপি’ অথবা ‘জিটুজি’ যে কোনোভাবেই হতে পারে।
এখানে শিল্পায়নের বিপুল সম্ভাবনা ও চাহিদা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই প্রতিষ্ঠানটি নতুন করে চালু হলে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং কর্মচাঞ্চল্য ফিরে আসবে এই জনপদে।
তিনি বলেন, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ প্রতিনিয়ত এই প্রতিষ্ঠানটির খোঁজখবর রাখছেন। আমার কাছে যখন যে তথ্য চেয়েছেন আমি তা সরবরাহ করছি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন