প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স মন্তব্য করেছেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে আধিপত্যবাদ ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে জনগণের প্রতিরোধের একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টও জনপ্রতিরোধের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে আধিপত্যবাদী শক্তির দোসরদের বিরুদ্ধে। ৪৯ বছরের ব্যবধানে, এই দুই দিনে আধিপত্যবাদী শক্তি ও তাদের সহযোগীদের পতন ঘটেছে। নাশকতা, বিশৃঙ্খলা ও অস্থিরতা সৃষ্টি করে তারা ক্ষমতায় ফিরে আসতে সক্ষম হবে না। তিনি জানান, ৭ নভেম্বর দেশপ্রেম জাগ্রত হওয়ার এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা পূর্ণতা পাওয়ার দিন হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রবিবার (৮ নভেম্বর) বিকেলে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে একটি বর্ণাঢ্য মিছিলপূর্ব সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশটি হালুয়াঘাট ডিএস মাদরাসা মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতা, অনিশ্চয়তা ও সংকটময় পরিস্থিতিতে ৭ নভেম্বর সংঘটিত সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় সৃষ্টি করে। এই দিনটিকে জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং দেশপ্রেমিক শক্তির ঐক্যের একটি ঐতিহাসিক প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
তিনি আরও বলেন, সেই সংকটময় সময়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জাতীয় নেতৃত্বের কেন্দ্রে আবির্ভূত হন। পরবর্তী সময়ে তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন, অর্থনৈতিক উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষি উন্নয়ন, স্বনির্ভরতা অর্জন এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের মূল ভিত্তি ছিল—বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, জাতীয় ঐক্য, উৎপাদনমুখী উন্নয়ন এবং সবার আগে বাংলাদেশ। আজকের পরিবর্তিত বিশ্বেও সেই দর্শনের প্রাসঙ্গিকতা অপরিসীম। তিনি জানান, ৭ নভেম্বর দিনটি জাতীয় ইতিহাসে নিজস্ব মহিমায় চিরভাস্বর হয়ে থাকবে। কেউ এই দিনের গৌরব ম্লান করতে কিংবা ইতিহাস থেকে মুছে ফেলতে পারবে না। যারা অন্য দেশের তাঁবেদারি করে, তারাই ৭ নভেম্বরের চেতনাকে ভয় পায়।
এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, ৭ নভেম্বর আমাদের শিক্ষা দেয়—বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে কোনো আপস নেই। জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো ষড়যন্ত্রই বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে রাখতে পারে না। এই দিনের শিক্ষা হচ্ছে, জাতীয় সংকট মোকাবেলায় জনগণের ঐক্য ও দেশপ্রেমের কোনো বিকল্প নেই। তিনি সকলকে দেশপ্রেম, গণতন্ত্র, জাতীয় ঐক্য ও উন্নয়নের অঙ্গীকারে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমাদের পরিচয় একটাই—আমরা বাংলাদেশি। আমাদের স্বার্থ একটাই—বাংলাদেশের স্বার্থ। আমাদের অঙ্গীকার একটাই—সবার আগে বাংলাদেশ’।
আজকের এই বর্ণাঢ্য মিছিল শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়—এটি আমাদের ঐক্য, দেশপ্রেম, গণতান্ত্রিক অঙ্গীকার এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রকাশ। বিএনপির এই কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, কিছু নবীন রাজনৈতিক নেতা প্রশ্ন তুলেছেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থানকে বিপ্লব বলা হলে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানকে বিপ্লব বলা হবে না কেন? এ ধরনের প্রশ্ন তুলে তাঁরা প্রকারান্তরে ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক গুরুত্বকে খাটো করার চেষ্টা করছেন। তাদের এই বক্তব্য ৭ নভেম্বর বিরোধী শক্তির বয়ানের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
তিনি বলেন, তাঁদের মনে রাখা উচিত, বিএনপির জন্মের আগেই ৭ নভেম্বরের ঘটনাকে বিপ্লব হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। প্রতিষ্ঠার পর বিএনপি সেই স্বীকৃতি ও ঐতিহাসিক চেতনাকে ধারণ করেছে। বিএনপি নতুন করে ৭ নভেম্বরকে বিপ্লবের স্বীকৃতি দেয়নি। সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, ১৯৭৫ সালের সিপাহী-জনতার বিপ্লব এবং ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণ-অভ্যুত্থান নিজ নিজ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও স্বমহিমায় উদ্ভাসিত। একটি অন্যটির প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে একে অপরের পরিপূরক। ইতিহাসের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে তার নিজস্ব প্রেক্ষাপট ও অবদানের আলোকে মূল্যায়ন করতে হবে।
সমাবেশে হালুয়াঘাট উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আসলাম মিয়া বাবুল, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক হানিফ মোহাম্মদ শাকের উল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশের পর একটি মিছিলের কর্মসূচি শুরু হয়। মিছিলটি হালুয়াঘাট ডিএস মাদরাসা থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে হালুয়াঘাট উত্তর বাজারে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শেষ হয়।
এখানে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে এমরান সালেহ প্রিন্স পলাতক ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের নাশকতা ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ৭ নভেম্বরের চেতনায় আধিপত্যবাদী শক্তির দোসরদের যেকোনো ধরনের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করা হবে। তিনি বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পূর্বে হাসিনা বলেছিলেন, ‘শেখের বেটি পালায় না’ কিন্তু তিনি পালিয়ে গেছেন। এখন তিনি বলছেন, ডিসেম্বরে ফিরে আসবেন। আসলে তিনি ফিরবেন না। ফিরবেন ফিরবেন বলে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছে। যেকোনো ষড়যন্ত্র জনগণকে সঙ্গে নিয়ে নস্যাৎ করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন