প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গাইবান্ধায় ১৩ মাস বয়সী কন্যাসন্তানকে ৩১ হাজার টাকায় বিক্রি করার ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেছে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শিশুর বাবাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দীন সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন সাদুল্লাপুর উপজেলার সাহারাবাজার (মন্দুয়ার) গ্রামের বাসিন্দা ও শিশুর বাবা মো. হামিদুল ইসলাম (৩৩), গাইবান্ধা সদর উপজেলার উত্তর কোমরপুর গ্রামের মো. আব্দুল মজিদ সরকার (৩৬), ফুলছড়ি উপজেলার মদনেরপাড়া গ্রামের মোছা. মোর্শেদা খাতুন (৪৫) এবং একই গ্রামের মোছা. জেসমিন আক্তার (২৮)।
পুলিশ সুপার জানান, মাদকাসক্ত হামিদুল ইসলাম স্ত্রীর কাছে মাদকের জন্য টাকা না পেয়ে গত ১৭ জুলাই বিস্কুট কিনে দেওয়ার কথা বলে নিজের ১৩ মাস বয়সী কন্যাসন্তান ফাতেমা আক্তার জান্নাতকে বাড়ি থেকে বাজারে নিয়ে যান। এরপর আব্দুল মজিদ সরকার ও মোর্শেদা খাতুনের মধ্যস্থতায় শিশুটিকে জেসমিন আক্তারের কাছে ৩১ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেওয়া হয়।
পরে সন্তানকে ফিরে পেতে শিশুর মা মোছা. রোমানা খাতুন (২২) আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১০০ ধারায় আবেদন করেন। আদালতের নির্দেশে গত ২৭ আগস্ট শিশুর বাবার বিরুদ্ধে তল্লাশি পরোয়ানা (সার্চ ওয়ারেন্ট) জারি করা হয়।
তিনি আরো জানান, আদালতের নির্দেশের পর জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও সদর থানা পুলিশ যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। গত রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় সাদুল্লাপুরের সাহারাবাজার মোড় থেকে প্রথমে হামিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার ছোট উমরপুর গ্রাম থেকে আব্দুল মজিদ সরকারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে ফুলছড়ির মদনেরপাড়া থেকে মোর্শেদা খাতুনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং জেসমিন আক্তারের হেফাজত থেকে শিশু ফাতেমা আক্তার জান্নাতকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ।
তিনি বলেন, উদ্ধার হওয়া শিশুকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মায়ের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এ বিষয়ে শিশুর মা মোছা. রোমানা খাতুন কালের কন্ঠকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন সন্তানের জন্য পাগলের মতো ছুটেছি। কারো বিরুদ্ধে আমার কোনো অভিযোগ নেই। শুধু অপরাধী আমার স্বামী। আমার কাছে মাদকের টাকা না পেয়ে কৌশলে জান্নাতকে নিয়ে উধাও হয় এবং পরে তাকে বিক্রি করে দেয়। আমি তার কঠোর শাস্তি দাবি করছি।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন