প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফুটবল বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের বিরুদ্ধে ইংল্যান্ডের সমতাসূচক গোলটি নিয়ে এক নজিরবিহীন ও প্রযুক্তিগত বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এটি আসরের ভাগ্য নির্ধারণে বড় প্রভাব ফেলতে পারতো। প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে জুড বেলিংহামের একটি গোলে ইংল্যান্ড ১-১ ব্যবধানে সমতায় ফিরেছে। তবে, সেই গোলের বিল্ডআপে (আক্রমণ তৈরির মুহূর্তে) বলটি মাঠের ওপরে ঝুলন্ত ক্যামেরায় লেগেছিল, যা টেলিভিশনের রিপ্লেতে দেখা গেছে।
ম্যাচ অফিসিয়ালদের চোখ এড়িয়ে যাওয়া এই ঘটনাটি নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বিতর্কের সূত্রপাত হয় নরওয়ের গোলরক্ষক অরিয়ান নল্যান্ডের একটি গোল কিক থেকে। টিভি রিপ্লেটে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে, বাতাসে ভাসমান বলটি মাঠের ওপর ঝুলে থাকা স্পাইডার ক্যামেরার তার বা কাঠামোতে আঘাত করে দিক পরিবর্তন করে এবং নিচে নেমে আসে। এরপরই বলের নিয়ন্ত্রণ নেন ইংল্যান্ডের এলিয়ট অ্যান্ডারসন। তিনি বলটি অ্যান্থনি গর্ডনের দিকে বাড়িয়ে দিলে গর্ডনের পাস থেকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে গোল করেন বেলিংহাম।
ফিফার স্পষ্ট নিয়ম অনুযায়ী, যদি বল মাঠের বাইরের কোনো বস্তু যেমন ক্যামেরা বা এর তারে আঘাত করে, তবে রেফারিকে সঙ্গে সঙ্গে খেলা বন্ধ করে 'ড্রপ বল'-এর মাধ্যমে পুনরায় খেলা শুরু করতে হবে। যেহেতু এই ঘটনাটি সরাসরি গোলের আগের আক্রমণভাগের অংশ ছিল, তাই ভিএআর প্রযুক্তি ব্যবহার করে গোলটি বাতিল করার পূর্ণ সুযোগ ছিল রেফারিদের সামনে।
ম্যাচ চলাকালীন ফক্স স্পোর্টসের সম্প্রচারে প্রিমিয়ার লিগের সাবেক প্রখ্যাত রেফারি মার্ক ক্ল্যাটেনবার্গ বলেন, "কোনো গোল হওয়ার প্রক্রিয়ায় বল যদি ক্যামেরার তারে লাগে, তবে ভিএআর অবশ্যই সেখানে হস্তক্ষেপ করতে পারে। এটি সম্পূর্ণ রিভিউ করার মতো একটি ঘটনা ছিল এবং অফিশিয়ালদের এটি ধরা উচিত ছিল।" এই সিদ্ধান্তহীনতার কারণে প্রথমার্ধ শেষে টানেলে ঢোকার মুখে নরওয়ের কোচ স্টেল সলবাকেন এবং তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ডসহ বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়কে মাঠের প্রধান রেফারি ক্লেমেন্ট টারপিনের ওপর ক্ষোভ উগরে দিতে দেখা যায়।
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে এই বিতর্কের জবাবে ফিফার পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়। তারা জানায়, বলের ভেতরে থাকা আধুনিক ট্র্যাকিং প্রযুক্তি (Internal Tracking Technology) পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে এবং ক্যামেরার কাঠামোর সঙ্গে বলের কোনো অস্বাভাবিক সংঘর্ষ বা আঘাতের সংকেত মেলেনি।
ফিফার এই আশ্বাসেও যদিও নরওয়ে শিবিরের ক্ষোভ কমেনি। প্রযুক্তি বনাম খালি চোখের এই লড়াই ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় রেফারিং বিতর্ক হিসেবে থেকে যাবে বলে মত প্রকাশ করেছেন ফুটবলবোদ্ধারা।
সূত্র: মার্কা
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন