প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইসরাইলের আসন্ন নির্বাচনে জনমত জরিপে পিছিয়ে পড়ার পরিস্থিতির মধ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে ক্রমবর্ধমান আতঙ্ক ছড়াচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। একই সাথে, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযান চালানোর জন্য ইসরাইলি সেনাবাহিনীর ওপর চাপ প্রয়োগের খবরও প্রকাশিত হয়েছে।
আগামী মঙ্গলবারের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের প্রাক্কালে, নেতানিয়াহু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি একটি ছবি প্রকাশ করেন, যেখানে তেল আবিবের ধ্বংসকারী পারমাণবিক বিস্ফোরণের মাশরুম মেঘ দেখা যাচ্ছে। তিনি ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, "যদি তাকে ভোট না দেওয়া হয়, তাহলে দেশটি পারমাণবিক ধ্বংসের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।"
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে নেতানিয়াহু উল্লেখ করেন, "যারা নিজেদের অস্তিত্ব, পরিবার ও প্রিয়জনদের নিয়ে চিন্তা করেন, বিরোধীদের ভোট দেওয়ার আগে তাদের হাত কাঁপা উচিত।"
ইসরাইলের চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে নেতানিয়াহু এবং সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামিরের মধ্যে সেনাবাহিনীকে দেওয়া একটি নির্দেশনা নিয়ে বিরোধ দেখা দিয়েছে। এই নির্দেশনার ফলে সংবেদনশীল সময়ে ইরানের ভুল হিসাব-নিকাশ থেকে বড় ধরনের সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জামির নির্দেশনার বিস্তারিত উল্লেখ না করে সেটি লিখিতভাবে তার কাছে উপস্থাপনের অনুরোধ করেছিলেন। তবে নেতানিয়াহু এই খবর অস্বীকার করেন। পরবর্তীতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর কোনো পরিকল্পনা থাকার কথা অস্বীকার করেছে।
তবে সোমবার সিএনএনের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে নেতানিয়াহু ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রাজি করানোর চেষ্টা করেছেন। এর আগে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসেও একই ধরনের খবর প্রকাশিত হয়েছিল। সিএনএনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মার্কিন কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত ট্রাম্প এমন পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছেন।
ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) সোমবার সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের সরাসরি অস্বীকার করেনি। তারা শুধু বলেছে, বাহিনীর সিদ্ধান্তগুলো একান্তভাবে নিরাপত্তা, পেশাগত, বস্তুনিষ্ঠ ও জাতীয় বিবেচনার ভিত্তিতে নেওয়া হয়।
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পর গত বছর ও চলতি বসন্তে নেতানিয়াহু যে বিজয়ী মনোভাব প্রকাশ করেছিলেন, বর্তমানে তার বক্তব্য স্পষ্টতই ভিন্ন। গত মার্চে তিনি দাবি করেছিলেন, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতা ধ্বংস হয়েছে। ২০২৫ সালে ইরানের বিরুদ্ধে অর্জিত সাফল্যকে তিনি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে টিকে থাকবে এমন ‘ঐতিহাসিক বিজয়’ হিসেবেও বর্ণনা করেছিলেন।
নেতানিয়াহুর সম্ভাব্য প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ও বিরোধী জোটের নেতা গাদি আইজেনকট সেনাপ্রধান জামিরের প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছেন। অবসরপ্রাপ্ত এই জেনারেল বলেন, "নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় টিকে থাকার অভিযানে আইডিএফকে দাবার ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন