প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গতকাল ২০ সেপ্টেম্বর দিল্লির জনকপুরীর ‘হায়াত সেন্ট্রিক’ হোটেলে খ্রিষ্টানদের একটি রবিবারের প্রার্থনা সভায় উগ্র হিন্দুত্ববাদী একটি দলের হট্টগোল ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। তাদের অভিযোগ, সেখানে বিপুল সংখ্যক হিন্দুকে খ্রিষ্টধর্মে ধর্মান্তরিত করা হচ্ছিল।
‘দ্য সিয়াসাত ডেইলি’-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, উক্ত দলের সদস্যরা হঠাৎ করে প্রার্থনা সভায় প্রবেশ করে উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে ধর্মান্তরের অভিযোগ তোলেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ওই দলের সদস্যরা হোটেল চত্বরে এই ধরনের অভিযোগ করছেন।
ভিডিওতে একজন সদস্যকে বলতে শোনা যায়, "এখানে ধর্মান্তরকরণ চলছে। জনকপুরীর হায়াত সেন্ট্রিক হোটেলে খ্রিষ্টানরা ধর্ম পরিবর্তন করাচ্ছে।"
মারধরের পাল্টা অভিযোগ আক্রমণকারীদের
ঘটনার ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তি আরও দাবি করেন, প্রার্থনা সভায় আসা শিশুরা সবাই হিন্দু এবং তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে যেহেতু তারা সভার বিরোধিতা করেছিল। তিনি বলেন, "এখানে থাকা শিশুদের ১০০ শতাংশই হিন্দু এবং তাদের ধর্মান্তরিত করা হচ্ছে। আমরা যখন এর প্রতিবাদ করি, তখন তারা আমাদের সাথে এমন দুর্ব্যবহার করছে।"
হট্টগোলের বিরোধিতা করার কারণে কয়েকজনকে মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অন্য একটি ভিডিওতে ওই দলের একজন সদস্য কিছু ফর্ম দেখিয়ে দাবি করেন, সভায় উপস্থিত মানুষের মধ্যে এগুলো বিতরণ করা হচ্ছিল। তার অভিযোগ, প্রায় ৫০০ হিন্দুকে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে খ্রিষ্টধর্মে ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা করা হচ্ছিল। তিনি বলেন, "তাদের দিয়ে এসব ফর্ম পূরণ করানো হচ্ছে। টাকার লোভ দেখিয়ে এখানে ধর্মান্তরকরণ করানো হচ্ছে। এখানে সব কিছুর মূল উদ্দেশ্যই ধর্মান্তর।"
ধর্মান্তরকরণের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে পুলিশ। পশ্চিম দিল্লির ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (ডিপিসি) বিচিত্র বীর সমস্ত অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছেন, এটি স্থানীয় খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের একটি নিয়মিত রবিবারিক প্রার্থনা সভা ছিল।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স (টুইটার)-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে ডিসিপি জানান, "স্থানীয় খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সদস্যরা তাদের নিয়মিত রবিবারের প্রার্থনার জন্য সেখানে একত্রিত হয়েছিলেন। অনুসন্ধানের পর ধর্মান্তর সংক্রান্ত কোনো বিষয়ের অস্তিত্ব বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।"
এছাড়াও, ৫০০ জন মানুষকে ধর্মান্তরিত করার যে দাবি করা হয়েছে, সেটিও উড়িয়ে দিয়েছেন এই ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা। বিবৃতিতে বলা হয়, "প্রায় ৫০০ জনের ধর্মান্তরিত হওয়ার দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা; অনুগ্রহ করে এ ধরনের গুজবে কান দেবেন না।"
বিতরণ করা ফর্মগুলো আসলে প্রার্থনার আবেদনপত্র। ‘দ্য সিয়াসাত ডেইলি’-র রিপোর্ট অনুযায়ী, ভিডিওতে প্রদর্শিত ফর্মগুলো মূলত ‘গ্লোবাল রয়্যাল প্রিস্টহুড চার্চ’-এর প্রার্থনার আবেদন এবং চার্চের সদস্যপদ সম্পর্কিত ফর্ম ছিল।
‘প্রেয়ার রিকোয়েস্ট ফর্ম’ বা প্রার্থনার আবেদনপত্রে উপস্থিত ব্যক্তিদের বিবরণ এবং যাজকের (প্রিস্ট) কাছে তারা কী প্রার্থনা করাতে চান তা জানতে চাওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে ‘ওয়েলকাম টু প্রিস্টহুড জেনারেশন’ শিরোনামের অন্য ফর্মটিতে চার্চের মধ্যে তারা কোন ধরনের পদে কাজ করতে আগ্রহী, সে বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল।
উল্লেখ্য, ‘গ্লোবাল রয়্যাল প্রিস্টহুড চার্চ’ নিয়মিত হায়াত সেন্ট্রিক হোটেলে রবিবারের প্রার্থনা সভার আয়োজন করে থাকে। চার্চের একজন প্রবীণ যাজক ২০ সেপ্টেম্বরের এই সমাবেশের জন্য ইনস্টাগ্রামে একটি আমন্ত্রণপত্রও শেয়ার করেছিলেন, যেখানে এটিকে "অ্যাটোনমেন্ট সানডে সার্ভিস" (প্রায়শ্চিত্তমূলক রবিবারের সেবা) হিসেবে বর্ণনা করা হয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে পুনরায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, অনুসন্ধানে ওই সভায় ধর্ম পরিবর্তনের কোনো প্রমাণ বা আলামত পাওয়া যায়নি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন