প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ে সমুদ্রসীমা সঠিকভাবে বুঝে পাওয়ার ঘটনা ঘটলেও বিগত সরকারের উদাসীনতা এবং সিদ্ধান্তহীনতার কারণে সমুদ্রের খনিজ সম্পদ আহরণ সম্ভব হয়নি, এমনটাই মন্তব্য করেছেন নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
তিনি সোমবার (২২ জুন) সকালে রাজধানীর খিলখেতে বানৌজায় নৌবাহিনী আয়োজিত বিশ্ব হাইড্রোগ্রাফি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে অংশ নিয়ে এ কথা বলেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের অর্থনীতি ও বাণিজ্যকে সর্বোচ্চভাবে কাজে লাগাতে সচেতনতা ও সক্রিয় প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, দেশের মোট বাণিজ্যের প্রায় ৯২ শতাংশই চট্টগ্রাম বন্দরকেন্দ্রিক, এবং এ বন্দরে নেভিগেশন ও জাহাজ চলাচলকে নিরাপদ ও উৎসাহিত করতে কাজ চলমান রয়েছে। আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও নিজেদের সক্ষমতা অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে। আগামীতে এই সক্ষমতা আরও বিস্তৃত ও প্রসারিত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
মন্ত্রী সমুদ্রসম্পদ, বিশেষ করে জ্বালানি খাতের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে বলেন, সমুদ্রে জ্বালানি পাওয়া শুধুমাত্র সম্ভাবনা নয়, এটি নিশ্চিতভাবে একটি সম্পদ। তবে পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে এর যথাযথ ব্যবহার এবং সঠিক প্রয়োগ সম্ভব হয়নি। তিনি জানান, ওই সময় আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ে বাংলাদেশ বিস্তীর্ণ সমুদ্রসীমা অর্জন করে, যা সংশ্লিষ্ট প্রতিযোগী রাষ্ট্রগুলোও মেনে নেয়। ভারত ও মিয়ানমার নিজ নিজ এলাকায় অনুসন্ধান ও উত্তোলন কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সেই সম্ভাবনার পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি।
বর্তমান সরকার নীতিগতভাবে অফশোর এলাকায় কূপ অনুসন্ধান, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ চিহ্নিতকরণ এবং পরবর্তীতে উত্তোলনের উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি হাইড্রোগ্রাফির ক্ষেত্রেও ধারাবাহিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বাংলাদেশের প্রায় ১৬ হাজার কিলোমিটার নৌপথ রয়েছে, যা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক নৌযোগাযোগ আরও নিরাপদ, মনোরম ও সাশ্রয়ী করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে হাইড্রোগ্রাফি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশ্ব হাইড্রোগ্রাফি দিবসকে কেন্দ্র করে তিনি বলেন, এই দিবস আমাদের শেখায় যে সমুদ্র ও নৌপথের সম্ভাবনাগুলো চিহ্নিত করে সর্বোত্তমভাবে ব্যবহার করতে হবে। উপকূলীয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে এই খাতে আরও মনোযোগী হতে হবে এবং আধুনিক প্রযুক্তি অর্জনের মাধ্যমে সক্ষমতা বাড়াতে হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন