প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ময়মনসিংহকে শিক্ষার নগরী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে যাঁরা অসামান্য অবদান রেখেছেন, তাঁদের মধ্যে আনন্দমোহন বসু অন্যতম। তিনি অন্ধকারাচ্ছন্ন সমাজকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করার জন্য পথ প্রদর্শন করেছেন। কৃতজ্ঞতার অনুভূতি থেকেই আনন্দমোহন বসুর জীবন, কর্ম ও আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার প্রয়োজন রয়েছে।
বুধবার আনন্দমোহন বসুর ১৮০তম জন্মদিন উপলক্ষে ময়মনসিংহ সিটি কলেজিয়েট স্কুলে আয়োজিত শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, আলোচনা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ এমপি।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমরা ময়মনসিংহবাসী আনন্দমোহন বসুর প্রতি কৃতজ্ঞ। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, নতুন প্রজন্মের কাছে আমরা তাঁকে তাঁর প্রাপ্য মর্যাদায় তুলে ধরতে পারিনি। তাই আনন্দমোহন বসুকে আমাদের স্মরণে ফিরিয়ে আনতে হবে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায়। তাঁর জীবন, কর্ম ও আদর্শ সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে জানাতে হবে।’
আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ আরও বলেন, ময়মনসিংহকে শিক্ষার নগরী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে যাঁরা অপরিসীম অবদান রেখেছেন, আনন্দমোহন বসু তাঁদের মধ্যে অন্যতম। তিনি শিক্ষা বিস্তারের মাধ্যমে একটি পশ্চাৎপদ সমাজকে এগিয়ে নেওয়ার যে উদ্যোগ নিয়েছিলেন, তা আজও ময়মনসিংহের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে গভীর প্রভাব বিস্তার করছে।
তিনি আরও বলেন, আনন্দমোহন বসুর মতো মনীষীদের অবদান শুধুমাত্র স্মরণসভা বা জন্মদিন পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। তাঁদের জীবন ও চিন্তাকে নতুন প্রজন্মের শিক্ষা, মূল্যবোধ ও মানবিক চেতনার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে আনন্দমোহন বসু স্মৃতি পরিষদের আহ্বায়ক কবি ও গল্পকার তাহমিনা রহমান বলেন, আনন্দমোহন বসু শুধু ময়মনসিংহের নয়, সমগ্র বাংলার শিক্ষা, সমাজসংস্কার ও মানবিক অগ্রযাত্রার এক উজ্জ্বল নাম। তাঁর জীবন ও কর্ম নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার মাধ্যমে শিক্ষা, মানবিকতা ও সমাজকল্যাণের আদর্শ সামনে নিয়ে আসা সম্ভব।
কবি, প্রাবন্ধিক ও সাংবাদিক স্বাধীন চৌধুরী বলেন, ‘আনন্দমোহন বসুকে শুধু একটি নাম হিসেবে স্মরণ করলে হবে না; তাঁকে জানতে হবে তাঁর কর্মের মধ্য দিয়ে। যে মানুষ একটি সমাজের অন্ধকারে শিক্ষার আলো জ্বালিয়েছেন, নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয় হওয়া উচিত সেই আলোকবর্তিকার।’
তিনি আরও বলেন, জন্মদিন পালনের আনুষ্ঠানিকতার বাইরে আনন্দমোহন বসুর জীবন ও কর্ম নিয়ে শিক্ষার্থী-তরুণদের মধ্যে আলোচনা বাড়াতে হবে। চিত্রাঙ্কন, সাহিত্য, ইতিহাস ও সংস্কৃতিচর্চার মতো সৃজনশীল উদ্যোগের মাধ্যমে শিশুদের কাছে তাঁর আদর্শ পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন।
সিটি কলেজিয়েট স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ময়মনসিংহ সিটি কলেজিয়েট স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সদস্য, কবি ও সংগঠক আলী ইউসুফ।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক ছাত্রনেতা ও ময়মনসিংহ মহাবিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির সভাপতি রতন আকন্দ, সমাজকর্মী ও সাবেক ছাত্র মির্জা মোস্তফা, পিটিআইয়ের সুপারিন্টেন্ডেন্ট ও চিত্রশিল্পী পরিতোষ মজুমদার, জয়ন্ত কুমার তালুকদার শিবু, হাসান মাসুদ, তাপস মজুমদার, জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালার উপ-কিপার মুকুল দত্ত এবং চিত্রশিল্পী মো. রাজন, গৌতম দেবনাথ, প্রিয় দত্ত, দীপ্ত দত্তসহ বিভিন্ন চিত্রশিল্পী।
গরম উপেক্ষা করে তিন শতাধিক ক্ষুদে চিত্রশিল্পীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। পরে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন