প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিশ্ব ইজতেমা-২০২৭ এর প্রেক্ষাপটে টঙ্গীর ইজতেমা মাঠে সাদপন্থিদের ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়া ২০১৮ ও ২০২৪ সালের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলাগুলোর তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করে অভিযোগপত্র দাখিলের দাবি করেছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমরা।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে অনুষ্ঠিত এক পরামর্শ সভা শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব দাবি উপস্থাপন করা হয়।
দেশের শীর্ষ মুরুব্বি আলেম ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরীর আহ্বানে টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের টিনশেডের শবগুজারি পয়েন্টে এ পরামর্শ সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশের ৬৪ জেলা থেকে আগত শীর্ষ আলেম-ওলামা ও ধর্মীয় নেতারা অংশগ্রহণ করেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মহল থেকে আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে যোগাযোগ করে সাদপন্থীদের এবারের ইজতেমার জন্য তিন দিনের জন্য টঙ্গীর মাঠ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে তার মতামত জানতে চাওয়া হয়। তিনি দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমদের সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত জানানোর কথা বলেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে এ পরামর্শ সভার আয়োজন করা হয়েছে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
সভায় উপস্থিত আলেম-ওলামা ও ধর্মীয় নেতাদের মতামতের ভিত্তিতে সরকারের কাছে দুটি দাবি জানানো হয়। প্রথমত, ২০২৫ সালের পর সাদপন্থীদের টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা মাঠ ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ার বিষয়ে সরকারের পূর্বের সিদ্ধান্ত বজায় রাখতে হবে। দ্বিতীয়ত, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে টঙ্গীতে সংঘটিত ঘটনাবলী সম্পর্কিত দুটি হত্যা মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করে অভিযোগপত্র দাখিলের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
আয়োজকদের মতে, মামলাগুলি বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তাধীন রয়েছে।
এছাড়া সাদপন্থীদের ইজতেমা আয়োজনের প্রেক্ষিতে দেশের বিভিন্ন জেলার মাদরাসা, মারকাজ ও অন্যান্য দ্বীনি প্রতিষ্ঠানে দোয়ার আয়োজনের জন্য আলেম-ওলামা ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও বলা হয়, যদি এ বিষয়ে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয় অথবা কোনো ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাহলে ঢাকার কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত পাওয়ার পর নিজ নিজ জেলায় কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে।
সভায় হেফাজত আমিরের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, মাওলানা নুরুল ইসলাম ওলিপুরী, হেফাজত মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান, মাওলানা আব্দুল হামিদ মধুপুরী, জমিয়ত সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, বেফাক মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক, মুফতি খিজিরুল্লাহ হাটহাজারী, মাওলানা ইকরাম হোসাইন ওয়াদুদী, মাওলানা সালাহ উদ্দিন, মাওলানা হিফজুর রহমান, মুফতি আরশাদ রহমানী, মুফতি দেলাওয়ার হোসাইন, মাওলানা রশিদুর রহমান ফারুক, মাওলানা আব্দুল আউয়াল, মুফতি মুবারকুল্লাহ, মাওলানা শফিকুর আহমেদ রশীদ, মাওলানা মুশতাক আহমেদ, মুফতি জাফর আহমদ, মাওলানা মহিউদ্দিন রব্বানী, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, মাওলানা বাহাউদ্দিন জাকারিয়া, মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমি, মাওলানা আলাওয়ালুল করীম, মাওলানা ফজলুল্লাহ মাদানীনগরী, মাওলানা নিয়ামতুল্লাহ আল ফারুকী, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মাওলানা যুবায়ের বিন তৈয়ব, মাওলানা আনাস, মাওলানা মনির হুসাইন কাসেমী, মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন রাজী, মুফতি মুহাম্মদ আলী আকাতাবনগরী, মাওলানা আফজালুর রহমান, মাওলানা নিয়ামুদ্দিন, মুফতি আতাউল্লাহ জিন্নাহ, মাওলানা লোকমান মাযহারী, মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, মাওলানা মাহফুজুর রহমান মাহমুদ, মুফতি ফিকহিয়ারুল্লাহ আহমদী ও মাওলানা আনিসুর রহমানসহ বিভিন্ন জেলার আলেম ও ধর্মীয় নেতারা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন