প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কানাডার জাতীয় বিমান সংস্থা, এয়ার কানাডার একজন সাবেক পাইলটের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে তিনি ১৭ বছর ধরে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স না নিয়েই বিমান পরিচালনা করেছেন। এই ঘটনায় ফৌজদারি মামলা দায়েরের পর কানাডীয় পুলিশ গত সপ্তাহে (২ জুন) তাকে গ্রেফতার করে।
তদন্ত কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, অভিযুক্ত পাইলট জেফরি ওয়াল ২০০৯ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত মোট ৯০০টিরও বেশি দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করেছেন, যা তিনি কোন ধরনের প্রয়োজনীয় যোগ্যতা এবং বাধ্যতামূলক লাইসেন্স ছাড়াই করেছেন।
অন্টারিওতে উপস্থিত এক সংবাদ সম্মেলনে পিল রিজিওনাল পুলিশের ডেপুটি চিফ মিলিনোভিচ পুরো ঘটনাটি একটি চলচ্চিত্রের কাহিনীর মতো বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন যে, জেফরি ওয়াল পাইলট ইন কমান্ড হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং প্রায় ১৭ বছর ধরে বোয়িং ৭৬৭, ৭৭৭ এবং ৭৮৭ উড়িয়েছেন। এ সময়ের মধ্যে তিনি প্রায় ৩০ লাখ কানাডিয়ান ডলার বেতনও গ্রহণ করেছেন, যা যথেষ্ট উল্লেখযোগ্য।
ঘটনাটি অনেকের কাছে ২০০২ সালের জনপ্রিয় ছবি ‘ক্যাচ মি ইফ ইউ ক্যান’-এর বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি বলে মনে হচ্ছে। ছবিতে এক তরুণ ভুয়া পরিচয় ধারণ করে পাইলট সেজে বিভিন্ন প্রতারণা চালায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, জেফরি ওয়াল প্রায় ২৭ বছর ধরে এয়ার কানাডায় কাজ করছিলেন এবং তার একটি কমার্শিয়াল পাইলট লাইসেন্সও ছিল। কিন্তু পুলিশ বলছে, ২০০৯ সালে ক্যাপ্টেন হিসেবে উন্নীত হওয়ার পর তার যে ‘এয়ারলাইন ট্রান্সপোর্ট পাইলট লাইসেন্স’ (এটিপিএল) থাকার কথা ছিল, সেটি তিনি কখনোই অর্জন করেননি।
ডেপুটি চিফ মিলিনোভিচ এই বিষয়টিকে এমন একজন চিকিৎসকের সঙ্গে তুলনা করেন, যিনি সাধারণ চিকিৎসার অনুমতি পেলেও ব্রেন সার্জারির মতো জটিল কাজ করছেন।
তিনি বলেন, নির্দিষ্ট পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য বিশেষ যোগ্যতা এবং নিয়মকানুনের প্রয়োজন হয় যা জননিরাপত্তার জন্য অত্যধিক গুরুত্ব বহন করে। মিলিনোভিচ অভিযোগ তোলেন যে, জেফরি ওয়াল তার নিয়োগকর্তা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে নিজের যোগ্যতা সম্পর্কে ভুল তথ্য দিয়েছেন।
২০২৫ সালে নিয়মিত নথি যাচাইয়ের সময় তার লাইসেন্স সংক্রান্ত গুরুতর অসঙ্গতি প্রকাশিত হয়। এরপর এয়ার কানাডা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে জানায়। তবে 'প্রজেক্ট ইকারুস' নামে পরিচিত ফৌজদারি তদন্তের শুরু হওয়ার আগেই, জেফরি ওয়াল ২০২৫ সালে অবসরে যান।
এয়ার কানাডা একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, এই কারণে কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টি হয়নি। কারণ, সংস্থার সমস্ত পাইলটকে প্রতি ছয় মাসে দক্ষতা যাচাইয়ের একটি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হয় এবং প্রতি ১২ মাসে ট্রান্সপোর্ট কানাডা দ্বারা অনুমোদিত চেক-পাইলটের মাধ্যমে ফ্লাইট মূল্যায়ন করতে হয়।
তবে এয়ার কানাডা বলেছে যে সঠিক লাইসেন্সিং বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং তারা বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
এদিকে, ট্রান্সপোর্ট কানাডা জেফরি ওয়ালের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং তাকে জরিমানাও করেছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে ৫ হাজার ডলারের বেশি অর্থমূল্যের জালিয়াতি, জাল নথি ব্যবহার এবং ভুয়া সিল বা চিহ্ন ব্যবহারের মোট সাতটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আগামী ২৯ জুন তাকে আদালতে হাজির করা হবে। তবে তার পক্ষে কোনো আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছে কি না, সে সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন