প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম মন্তব্য করেছেন যে, ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশ সরকারের বিষয়ে তারা এখনও স্পষ্টভাবে পলিসি জানায়নি। তিনি উল্লেখ করেন, "আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে সঠিক মর্যাদা দিয়ে একজন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারা সেখানে ইনভাইট করেনি।"
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে ভোলায় ৪ দিনের সফরের শেষ দিনে ঢাকায় ফেরার পথে ভোলা সার্কিট হাউসে তিনি এসব কথা বলেন।
স্পিকার আরও বলেন, "বাংলাদেশ-ভারতের ব্যাপারে কিছু কিছু রিজার্ভেশন আছে, বিশেষ করে পতিত সরকারের প্রধানমন্ত্রীকে তারা আশ্রয় দিয়েছেন এবং সেখানে বসে রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছেন।" তিনি মনে করেন, এটি সৎ প্রতিবেশীসুলভ আচরণ নয়। তিনি বলেন, "ভারতের সঙ্গে আমাদের সুসম্পর্ক রাখা দরকার কিন্তু তাদের পক্ষ থেকে সেই সুসম্পর্কের জন্য তেমন কিছু দেখা যায় না।"
স্পিকার বলেন, "ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে সৎ প্রতিবেশীসুলভ সমমর্যাদার ভিত্তিতে আমাদের সম্পর্ক আমরা চাই।"
তিনি বলেন, "তারেক রহমান ব্যাপক জনপ্রিয়তা নিয়ে এবং নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছেন।" তিনি উল্লেখ করেন, "গত ১৭ বছর আওয়ামী লীগ সরকারের দুঃশাসনের ফল দেশের প্রতিটি বিভাগে, স্তরে ধস নেমেছে, হত্যা, গুম, খুন, মানিলন্ডারিং অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছে, দেশকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে।"
স্পিকার বলেন, "এ পরিস্থিতি থেকে উন্নয়ন করতে অনেক সময় লাগবে। সাত মাস এটার জন্য খুবই অল্প সময়।"
সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "আমার মনে হয় সংস্কার পর্ব ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে।" তিনি উল্লেখ করেন, "প্রধানত আইনকানুনে অনেক সংস্কার আনতে হবে।" তিনি জানান, "যেগুলো নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলাপ-আলোচনা চলছে।"
স্পিকার বলেন, "জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ব্যাপারে কিছুটা অসুবিধা দেখা দিচ্ছে, রাজনৈতিক দলসমূহের মধ্যে এখনো তারা একমত হতে পারেনি।"
তিনি উল্লেখ করেন, "সরকারি দল বিএনপি ও বিরোধী দল যদি একটা সমঝোতায় আসে, তাহলে বিগত ১৬-১৭ বছরের দুঃশাসন ও বঞ্চনা থেকে জনগণ মুক্তি পেতে পারে।"
স্পিকার আশা প্রকাশ করেন যে, "জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে সরকার এবং বিরোধী দল উভয়ই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।" তিনি বলেন, "আশা করি সংসদের আগামী অধিবেশনে সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে সরকার এবং বিরোধী দল একমত হলে আইনে যে সংস্কার করে পরিবর্তন দরকার তা যদি আনতে পারি, তাহলে এই যে গত ১৬ বছরের দুঃশাসন থেকে জনগণ মুক্তি পাবে।"
বিরোধী দলের লংমার্চ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "একটা স্থিতিশীল পরিবেশের প্রয়োজন।" তিনি উল্লেখ করেন, "বিরোধী দলকেও ধৈর্য ধরতে হবে।" তিনি বলেন, "সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে যদি সুন্দর বোঝাপড়া থাকে, তাহলে দেশ উন্নয়নের পথে যেতে পারবে।"
এ সময় ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান, পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছার, ভোলা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম নবী আলমগীর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন