প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) মন্ত্রিসভায় সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো অনুমোদনের বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছে। সংস্থাটি মনে করে, প্রতিবছর সম্পদ বিবরণী প্রকাশের শর্তে সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামোর আওতায় আনা উচিত।
টিআইবি আরও জানিয়েছে, যারা সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করবেন না, তাদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। গত মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান এই আহ্বান জানান।
সংস্থাটি মনে করছে, এই শর্ত বাস্তবায়িত হলে সরকারি খাতে দুর্নীতি ও হয়রানিমুক্ত সেবা পাওয়া সম্ভব হবে। একইসঙ্গে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা সহজ হবে।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আর্থিক সক্ষমতার কঠিন সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তিন ধাপে সরকারি কর্মজীবীদের নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্তটি যৌক্তিক। তিনি উল্লেখ করেন, জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সরকারি কর্মজীবীদের বেতন-ভাতা সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে তাদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ পেশাগত উৎকর্ষ ও দুর্নীতিমুক্ত সেবা প্রত্যাশা করা অসম্ভব।
টিআইবি মনে করে, জনগণের করের টাকায় বেতন-ভাতা বাড়ানোর কাঙ্ক্ষিত সুফল পেতে হলে সরকারি কর্মজীবী ও তাদের পরিবারের নির্ভরশীল সদস্যদের আয় ও সম্পদের হিসাব প্রতিবছর হালনাগাদ প্রকাশ করতে হবে।
ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, অনেক সরকারি কর্মজীবী সৎভাবে জীবনযাপন করেন এবং অনিয়ম ও দুর্নীতির ঊর্ধ্বে থেকে পেশাগত দায়িত্ব পালন করেন। তাদের জন্য নতুন বেতন স্কেল ন্যায়সংগত ও অপরিহার্য।
অন্যদিকে, ঢালাওভাবে নতুন বেতন স্কেল প্রয়োগ করা হলে সরকারি খাতে দুর্নীতির মাত্রা বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক। তিনি বলেন, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অবৈধ অর্থসম্পদ অর্জনে লিপ্ত ব্যক্তিদের জন্য এই সুবিধা অযৌক্তিক ও নিষ্প্রয়োজন।
তিনি সতর্ক করে বলেন, তাদের অর্থসম্পদের আকাঙ্ক্ষা এতটাই গগনচুম্বী যে কার্যকর জবাবদিহির উপায় নিশ্চিত না করে ঢালাওভাবে নতুন বেতন স্কেল প্রয়োগ করা হলে সরকারি খাতে দুর্নীতির মাত্রা আরও বাড়বে। এর আগেও এরকম দৃষ্টান্ত দেখা গেছে।
নতুন বেতন কাঠামো সরকারি কর্মজীবীদের আর্থিক নিরাপত্তা ও কর্মোদ্দীপনা বাড়ানোর পাশাপাশি দক্ষ, গতিশীল ও জনবান্ধব জনপ্রশাসন গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, সরকারের এমন আশাবাদের কথা উল্লেখ করেছে টিআইবি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন