প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পিরোজপুরের নেছারাবাদে চলতি বছরের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে হতাশাজনক চিত্র দেখা গেছে। উপজেলার ২১টি মাদরাসা থেকে ৫৪৫ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ৩০৯ জন।
গড় পাসের হার ৫৬ দশমিক ৬৯ শতাংশ। এর মধ্যে আটটি মাদরাসার পাসের হার ৫০ শতাংশের নিচে। আর একটি মাদরাসা থেকে অংশ নেওয়া পাঁচ পরীক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারে নি।
পাঁচ পরীক্ষার্থীর কেউই পাস না করা প্রতিষ্ঠানটি হলো পূর্ব আকলম দাখিল মাদরাসা। প্রতিষ্ঠানটি নন-এমপিও। মাদরাসাটিতে ১৫ জন শিক্ষক এবং তিনজন কর্মচারী রয়েছেন। শিক্ষার্থী রয়েছে দুই শতাধিক। প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্তির জন্য আবেদনও করেছে।
এরপরও দাখিল পরীক্ষায় পাঁচ পরীক্ষার্থীর একজনও উত্তীর্ণ না হওয়ায় অভিভাবক ও মাদরাসার শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর নেছারাবাদের ২১টি মাদরাসা থেকে ৫৪৫ জন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ৩০৯ জন পাস করেছে। পাসের হার ৫৬ দশমিক ৬৯ শতাংশ। এ প্লাস পেয়েছে ২২ জন।
সামগ্রিক ফলাফলের বিপরীতে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ফলাফল উদ্বেগজনক। পাটিকেলবাড়ী দরগাহ শরীফ মাদরাসা থেকে ১৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে মাত্র দুজন। নেছারাবাদ মোজাদ্দেদিয়া মাদরাসা থেকে ১১ জনের মধ্যে পাস করেছে দুজন। গাজীপুর মৈশানী হারুন অর রশিদ ফাজিল মাদরাসা থেকে ১৫ জনের মধ্যে পাস করেছে পাঁচজন।
এছাড়া বিন্না নেছারিয়া দাখিল মাদরাসা থেকে ১৬ জনের মধ্যে সাতজন, আউরিয়া হোসাইনিয়া দাখিল মাদরাসা থেকে ৩৪ জনের মধ্যে নয়জন, মাহমুদকাঠি দাখিল মাদরাসা থেকে ২৭ জনের মধ্যে ১২ জন, হজরত রাবেয়া বসরি (রহ.) মহিলা দাখিল (আমিরহাজী) মাদরাসা থেকে ১৬ জনের মধ্যে পাঁচজন এবং গুয়ারেখা রাব্বানিয়া দাখিল মাদরাসা থেকে ১৫ জনের মধ্যে সাতজন উত্তীর্ণ হয়েছে।
সবচেয়ে হতাশাজনক ফল হয়েছে পূর্ব আকলম দাখিল মাদরাসায়। পাঁচজন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে একজনও পাস না করায় প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে ১৫ জন শিক্ষক ও তিনজন কর্মচারী থাকার পরও এমন ফলাফল কেন তা নিয়ে অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা চলছে।
পূর্ব আকলম দাখিল মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, মাদরাসাটি ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও এখনো নন-এমপিও। এ বছর পাঁচজন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে কেউই পাস করতে পারেনি। এর সুনির্দিষ্ট কারণ তারা বুঝে উঠতে পারছেন না।
তিনি আরো জানান, মাদরাসাটি এখনো এমপিওভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষকদের বেতন হয় না। এ কারণে কখনো কখনো শিক্ষকেরা অনুপস্থিত থাকতেন। ফলাফল খারাপ হওয়ার পেছনে এটিও একটি কারণ হতে পারে। মাদরাসাটি এমপিওভুক্ত হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
নেছারাবাদ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জহিরুল আলম বলেন, ‘অনেক প্রতিষ্ঠানের ফলাফল ভালো হয়েছে। তবে কিছু প্রতিষ্ঠানে যথেষ্ট শিক্ষক-কর্মচারী থাকার পরও ফলাফল খারাপ হয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠানের ফলাফল খারাপ হয়েছে, তাদের কাছে চিঠির মাধ্যমে ফলাফল খারাপ হওয়ার কারণ জানতে চাওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন