প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
হবিগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা শাখার সদস্যসচিব মাহাদী হাসান ডিসি অফিসের ভেতরের মারধরের ঘটনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এবার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তার ওপর হামলা করেছেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে এই ঘটনাটি ঘটে, এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে প্রকাশ পায়, ডিসি অফিসের ভেতরে ছাত্রদলের হামলার শিকার হয়েছেন মাহাদী।
এর আগে বুধবার (১০ জুন) মাহাদী অভিযোগ করে বলেন যে, ছাত্রদলের কর্মীরা হামলা চালাতে আসছে। তখন তিনি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লাইভ করেন। লাইভ চলাকালে দেখা যায়, তিনি আতঙ্কে কাঁপছেন।
প্রাণ বাঁচাতে, মাহাদী হবিগঞ্জ সদর থানার দিকে রিকশায় করে ছুটে যান অন্য একজনকে সঙ্গে নিয়ে। লাইভের সমাপ্তিতে তিনি থানার কমপাউন্ডের ভিতরে প্রবেশ করে পুলিশের কাছে সাহায্যের জন্য আহ্বান জানান।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক এবং সংগঠনটির হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহাদী হাসান লাইভে দাবি করেন যে, ছাত্রদলের কর্মীরা হামলা চালানোর উদ্দেশ্যে ধাওয়া করছেন। এই পরিস্থিতিতে তিনি সদর থানায় আশ্রয় গ্রহণ করেছেন।
ফেসবুক লাইভে মাহাদী বলেন, ‘ছাত্রদল আমার ওপর সামনে এসে অ্যাটাক করতে আসতেছে। আমার কি পারসোনাল কোনো মতামত দেওয়ার অধিকার নাই? ছাত্রদলের লোকজন আমার পেছনে ধাওয়া দিচ্ছে। আমার কি পারসোনাল অধিকার নাই?’
লাইভের শেষের দিকে তিনি জানান, ‘আমি এখন থানাতে আছি। ডিউটি অফিসার সাহেবের রুমে আছি। আমার একটা পরীক্ষা ছিল, ড্রাইভিংয়ের পরীক্ষা। আমি আগে থেকে জানিয়েছিলাম যে, আমার এখানে একটি নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগ আছে। কিন্তু তাও পরীক্ষার জন্য এসেছিলাম। আসার সময় রিকশায় ছিলাম। তখন পেছন থেকে হামলার জন্য ধাওয়া দেওয়া হয়।’
মাহাদী হাসানের দাবি, তিনি আগে থেকেই সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে ছিলেন। পরীক্ষায় উপস্থিত হতে পারবেন বলে সংশ্লিষ্টরা তাকে আশ্বস্ত করেছিলেন। কিন্তু ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পরে পরিস্থিতি পাল্টে যায়।
এ বছরের শুরুতে এক যুবককে গ্রেপ্তার করে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানা পুলিশ। তারপর ২ জানুয়ারি তাকে ছাড়াতে থানায় যান মাহাদী হাসানের নেতৃত্বে একদল শিক্ষার্থী। এক পর্যায়ে মাহাদী ওসির কক্ষে ঢুকে তার বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ করেন। তিনি দাবি করেন, ‘আমরা জুলাই আন্দোলনকারীরা সরকারকে ক্ষমতায় বসিয়েছি। আপনি প্রশাসনের লোক হয়ে আমাদের ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছেন, হবিগঞ্জে গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন হয়েছিল, এখানে ১০ জন নিহত হয়েছেন। বানিয়াচং থানা আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম এবং এসআই সন্তোষকে আমরা আগুনে জ্বালিয়ে দিয়েছিলাম।’
বিষয়টি নিয়ে যখন প্রবাহিত সমালোচনা হয়, তখন ৩ জানুয়ারি মাহাদীকে গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু সমর্থকদের বিক্ষোভের কারণে ৪ জানুয়ারি আদালত তাকে জামিনে মুক্তি দেয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের দিনে, একদল বিক্ষুব্ধ বানিয়াচং থানায় আক্রমণ চালায় এবং অস্ত্র লুট ও আগুনে পুড়িয়ে দেয়। গভীর রাতে পুলিশ সদস্যদের থানার ভেতর থেকে উদ্ধারের সময় এসআই সন্তোষ চৌধুরীকে ছিনিয়ে নিয়ে গিয়ে থানার চত্বরে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরদিন তার মরদেহ থানার সামনে একটি গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়। পুলিশ কর্মকর্তা সন্তোষকে হত্যায় নিজের জড়িত থাকার কথা জানোয়া চলে, মাহাদী হাসান চলতি বছরের জানুয়ারিতে থানায় বসে সদম্ভে এই কথা বলেন।
এ ঘটনাটির পাঁচ মাস পরে, নিজের নিরাপত্তার জন্য পুলিশের কাছে আশ্রয় নিয়ে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছেন মাহাদী। এ বিষয়ে হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা যতদূর খবর পেয়েছি সাবেক প্রেসিডেন্ট শহীদ জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে নিয়ে বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করার কারণে মাহাদী হাসানের সঙ্গে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। তবে আজকের হামলার অভিযোগসংক্রান্ত ভিডিওতে আমরা ছাত্রদলের কাউকে দেখিনি এবং তিনি কাউকে সুনির্দিষ্টভাবে দেখাতেও পারেননি।’
ওসি আরো বলেন, ‘সমন্বয়ক মাহাদী আমাদের কাছে একটি মৌখিক অভিযোগ দিয়েছেন। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। তিনি বর্তমানে থানায় অবস্থান করছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন