প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফুটবল মাঠে অভিজ্ঞতা এবং শত কোটি টাকার অহংকার যে কত দ্রুত ধুলোয় মিশতে পারে, সেটি বিশ্ববাসী ডালাসের সেমিফাইনালে দেখেছে। একটি দিকে কিলিয়ান এমবাপ্পে, ওসমানে ডেম্বেলে, কিংবা থিও হার্নান্দেজদের মতো বিশ্ব কাঁপানো ফুটবল মহাতারকারা ছিলেন; অন্যদিকে স্পেনের যুবকদের একটি শক্তিশালী দল। সাধারণভাবে যাদের কাল সকালে স্কুলের হোমওয়ার্ক জমা দেওয়ার কথা ছিল, সেই লামিন ইয়ামালদের কাছেই আজ সত্যিকারের অর্থে ফুটবলের ব্যাকরণ শিখতে হলো শত কোটির ফ্রান্স দলকে। সেমিফাইনালের বিশাল মঞ্চে ফরাসি বাহিনীকে ২-০ গোলে পরাজিত করে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে স্পেনের এই তরুণ দল।
আসর শুরুর আগ মুহূর্তে ফ্রান্সের তারকা খচিত দলের সামনে কেউ এ অনভিজ্ঞ স্পেনকে গুরুত্ব দেয়নি। তবে ম্যাচের শুরু থেকেই দেখা গেল এক অবিশ্বাস্য বৈপরীত্য। স্পেনের মাঝমাঠের ১৮-বছরের পেদ্রি কিংবা রাইট উইংয়ে মাত্র ১৯ পেরানো লামিন ইয়ামালরা যেভাবে পুরো মাঠ শাসন করলেন, তা দেখে ফরাসি ডিফেন্স নিজেদেরকে খুব সাধারণ একটি ক্লাব দল হিসেবে অনুভব করছিল। ম্যাচের ২২ মিনিটে ইয়ামালের চোখের পলকে করা ড্রিবলিং থামাতে গিয়ে ডি-বক্সে তাকে ফাউল করতে বাধ্য হন ফরাসি ডিফেন্ডার লুকাস দিনিয়ে। পেনাল্টি থেকে মিকেল ওয়ারজাবালের গোলে শুরুতেই স্পেন লিড নিয়ে নেয়। এরপর ৫৪ মিনিটে পেড্রো পোরোর দ্বিতীয় গোলটি যখন ফ্রান্সের জালে প্রবাহিত হল, তখন এমবাপ্পেদের চোখের সামনে মনীষায় কেবল অসহায় আত্মসমর্পণের চিত্র ফুটে উঠছিল।
ম্যাচের ৬০ মিনিটে ইয়ামাল আরও একবার ফরাসি ডিফেন্সকে বোকা বানিয়ে বল জালে ঢুকিয়ে দেন; কিন্তু সেটি অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায়, যা ছিল ফরাসিদের জন্য বড় রক্ষা। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে অবিশ্বাস্য ফর্মে থাকা স্পেনের এই কিশোররা আজ প্রবীণ ফরাসি আক্রমণভাগকে একটিও জোর গলায় দাঁড়াতে দেয়নি। ম্যাচ শেষে হতাশায় তলিয়ে পড়া এমবাপ্পে যখন উনাই সিমোনকে ফাউল করে বসেন, তখন স্পষ্ট হয় যে স্প্যানিশ তরুণদের টিকিটাকা জাদুতে শত কোটির ফ্রান্সের দম্ভ মাঠে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন