প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার প্রায় তিন মাস পরে, জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কাছে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে প্রথম প্রতিবেদনটি পাঠিয়েছে।
প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানিয়েছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কে তাদের মূল্যায়নে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। একই সময়ে, এ প্রতিবেদনে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ে পূর্বের উদ্বেগও রয়ে গেছে, আইএইএ জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কাছে প্রতিবেদনটি পাঠানোর সময়, সংস্থাটি তেহরানকে আবারও তাদের পরমাণু কর্মসূচি ও সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত সম্পর্কে ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করে। এর অর্থ হলো, ইরানের কাছে যেসব সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বিপুল পরিমাণ মজুত রয়েছে, তা সাম্প্রতিক যুদ্ধেও বড় কোনো ক্ষতির মধ্যে পড়েনি বলেই মনে হচ্ছে। প্রায় এক বছর আগে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের প্রধান পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, কিন্তু এরপর থেকে ওই ইউরেনিয়াম মজুত সম্পর্কে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ইরানও এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো বার্তা জানায়নি।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নতুন বিমান হামলা শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এটি আইএইএর প্রথম প্রতিবেদন। ওই হামলার অন্যতম ঘোষিত লক্ষ্য ছিল ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন থেকে বিরত রাখা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একাধিকবার বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করাই সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য ছিল।
ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনারও একটি বড় অচলাবস্থার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চলমান আলোচনায়, ট্রাম্প প্রশাসন তেহরানকে এই মজুত ত্যাগের জন্য আহ্বান জানিয়ে আসছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে একটি প্রাথমিক চুক্তির দিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যেখানে পারমাণবিক বিষয়গুলো পরবর্তী আলোচনার জন্য ফেলে দেওয়া হতে পারে।
আগামী সপ্তাহে আইআইএর ৩৫ সদস্যবিশিষ্ট বোর্ড অব গভর্নরসের ত্রৈমাসিক বৈঠকের আগে প্রকাশিত দুটি গোপন প্রতিবেদনের একটি ছিল এটি। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের হাতে আসা নথিগুলোতে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে আগের প্রতিবেদনের তুলনায় খুব সামান্য পরিবর্তন দেখা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইএইএর মহাপরিচালক ইরানকে জোর দিয়ে জানিয়েছেন যে, পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) অনুযায়ী নিরাপত্তা তদারকি চুক্তি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা জরুরি এবং কোনো পরিস্থিতিতে ইরান একতরফাভাবে এর বাস্তবায়ন স্থগিত রাখতে পারে না।
আইএইএ এখনও গত বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে পুনরায় প্রবেশ করতে সক্ষম হয়নি। একই সাথে, ইরান সংস্থাটিকে জানায়নি তাদের স্বল্প ও উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বর্তমান মজুত কোথায় এবং কী অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামও, যা প্রায় ৯০ শতাংশ বিশুদ্ধতার অস্ত্র-উপযোগী ইউরেনিয়ামে পরিণত হওয়ার খুব কাছাকাছি।
আইএইএ সতর্ক করে বলেছে, প্রায় এক বছর ধরে ঘোষিত ইউরেনিয়াম মজুত যাচাই করতে না পারা অস্ত্র বিস্তারের উদ্বেগ তৈরি করছে এবং এটি এনপিটি নিরাপত্তা চুক্তি পালনের ক্ষেত্রেও উদ্বেগজনক। সংস্থাটির মতে, এত দীর্ঘ সময় নজরদারির বাইরে থাকলে পারমাণবিক উপাদানের অবস্থান সম্পর্কে ধারাবাহিক তথ্য বা ‘জ্ঞানগত ধারাবাহিকতা’ হারিয়ে যায়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরানের ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোতে পূর্বে ঘোষিত সব পারমাণবিক উপাদান সম্পর্কে ধারাবাহিক তথ্য পুনরুদ্ধার করা অত্যন্ত জরুরি।
সূত্র : রয়টার্স।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন