প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের জন্য কয়েকশ কোটি ডলারের তহবিল ছাড়তে রাজি হয়েছে। ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের মধ্যে তেহরানের পক্ষ থেকে আমিরাতে হামলা চালানো হয় দাঁড়িয়ে। এর পর ধনী উপসাগরীয় দেশটি নিজেদের কৌশলে পরিবর্তন আনতে উদ্যোগ নিয়েছে। এই তথ্য চারটি সূত্র সাংবাদিকদের কাছে নিশ্চিত করেছে।
এটা এমন একটি সময়ে প্রকাশিত হয়েছে, যখন যুদ্ধ বন্ধ করার লক্ষ্যে ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে আলোচনা চলছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে বিদেশি ব্যাংকগুলোতে ইরানের তেল বিক্রির বিপুল পরিমাণ অর্থ আটকা রয়েছে। কূটনীতিকদের মতে, চলমান আলোচনা শেষে সেই অর্থ ছাড় হতে পারে।
দুটি আঞ্চলিক সূত্র জানিয়েছে, আমিরাত মোট ১০ বিলিয়ন (১ হাজার কোটি) ডলার ছাড় করতে সম্মত হয়েছে, যার মধ্যে ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি ইতিমধ্যেই তেহরানকে দেওয়া হয়েছে।
আরও দুটি সূত্র বলছে, আবুধাবি তেহরানের জন্য মোট ২০ বিলিয়ন ডলার ছাড় করবে। আরব আমিরাতের ভূখণ্ডে ইরান হামলা চালাবে না—এমন শর্তে এই অর্থ ছাড় দেওয়া হবে।
একটি সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি ৩ বিলিয়ন ডলার প্রথম কিস্তির হিসেবে প্রদান করা হয়েছে। এদিকে, এই অর্থের উৎস সম্পর্কে রয়টার্স নিশ্চিত হতে পারেনি।
শনিবার (১৩ জুন) ভোরে আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলে, ৩ বিলিয়ন ডলার হস্তান্তরের খবরটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। তবে এ বিষয়ে আর কোনও বিস্তারিত জানানো হয়নি।
এর আগে অর্থ হস্তান্তরের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে, আমিরাতের একজন কর্মকর্তা বলেন, তারা উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করছেন।
তিনি আরও বলেন, "উত্তেজনা প্রশমন এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা আনাই আমিরাতের পররাষ্ট্রনীতির মূল লক্ষ্য।" এই সংঘাতের ভয়াবহ পরিণতি থেকে পুরো অঞ্চলের মানুষকে বাঁচাতে যুক্তরাষ্ট্রের গঠনমূলক চেষ্টাকে আমিরাত সমর্থন করে।
আগস্ট ৪ মে ইরান সর্বশেষ সরাসরি হামলা চালায়।
এই পদক্ষেপের বিষয়ে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি সই বা বৈঠক করলেই ইরানের অর্থ ছাড় হবে না।
তার মতে, সম্ভাব্য চুক্তিটি এমনভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে, যাতে তেহরান তাদের প্রতিশ্রুতিগুলো সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন করলেই তারা অর্থনৈতিক সুবিধা পাবে।
রয়টার্সের পক্ষ থেকে মন্তব্যের জন্য ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাত্ক্ষণিক সাড়া মেলেনি।
এটি একটি সংবেদনশীল সমস্যা হওয়ায় উল্লেখিত সূত্রগুলো নিজেদের নাম প্রকাশ করতে রাজি হয়নি।
এই সমঝোতা সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইরানের মধ্যে প্রকাশ্য শত্রুতার ক্ষেত্রে নাটকীয় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। যুদ্ধের সময়ে দুই দেশের মধ্যে চরম বৈরিতা বজায় ছিল। ইরানি হামলায় দুবাইয়ের হোটেলগুলো ফাঁকা হয়ে গিয়েছিল এবং বহু প্রবাসী দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন।
সম্প্রতি, বিষয়টি মার্কিন-ইরান সংঘাত সমাধানে অভিনব উপায় তৈরি করেছে, যেখানে কোনো পক্ষকেই নিজেদের লাল রেখা অতিক্রম করতে হচ্ছে না। ইরান যুদ্ধের ক্ষতিপূরণের দাবি করতে পারবে এবং ওয়াশিংটনও যুক্তি দিতে পারবে যে তারা কোনও অর্থ দেয়নি। আবুধাবি তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে।
অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে, ইরান আরব আমিরাতে সব ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বন্ধ রাখবে এই অর্থ ছাড়ের বিনিময়ে। পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক পুনর্গঠন হবে।
সূত্রটি আরও জানিয়েছে, ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্তত দু'টি আরব দেশের সঙ্গে একই ধরনের সমঝোতা করতে যোগাযোগ করেছে।
আরব আমিরাতে ইরানের সর্বশেষ সরাসরি হামলাটি এক মাসেরও বেশি সময় আগে, ৪ মে ওমান উপসাগরে অবস্থিত ফুজাইরাহ বন্দরে।
প্রথম সূত্রের তথ্যমতে, কয়েক সপ্তাহ আগে আলোচনা শুরু হয়েছিল। তখন গত সপ্তাহে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কর্মকর্তারা আবুধাবিতে আসেন। তারা জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও আবুধাবির উপ-শাসক শেখ তাহনুন বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সাথে বৈঠক করেন।
ওই সফরের পর এই লেনদেনের খুঁটিনাটি চূড়ান্ত করতে আরব আমিরাতের কর্মকর্তারা তেহরান সফর করেন।
দুবাইয়ে আটকে থাকা ইরানের সম্পদসংক্রান্ত বিষয়টি এই চুক্তির সঙ্গে জড়িত। দুবাই আমিরাতের বৃহত্তম বাণিজ্যিক শহর এবং ইরানের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ।
দুবাইয়ের ব্যাংকগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে বিপুল পরিমাণ ইরানি অর্থ জমা আছে, যার বেশিরভাগ মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে আটকা রয়েছে।
গত ১১ এপ্রিল ইরানের একটি শীর্ষস্থানীয় সূত্র জানিয়েছিল, ইরানের সম্পদ ছাড়তে যুক্তরাষ্ট্র সম্মত হয়েছে। কিন্তু মার্কিন এক কর্মকর্তা তাৎক্ষণিকভাবে এই দাবি অস্বীকার করেছেন।
সংবেদনশীল হওয়ার কারণে নাম প্রকাশে অস্বীকারকারী সূত্রটি জানিয়েছে, এই সম্পদ ছাড়ার বিষয়ে ‘হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার’ সঙ্গে সম্পর্ক আছে। এটি চলমান সংঘাত বন্ধের আলোচনা সংক্রান্ত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন