প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা মির্জাগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সদ্যঘোষিত কমিটি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) তারা ঝাড়ুমিছিল, বিক্ষোভ সমাবেশ ও সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করেন।
মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
নেতাকর্মীদের অভিযোগ, সদ্যঘোষিত সাত সদস্যের আংশিক কমিটিতে রাজপথের পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত চত্বর থেকে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা ঝাড়ুমিছিল শুরু করেন। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে তারা একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন।
প্রকাশ: ২৭ আগস্ট, ২০২৬ ১৮:১৭
পরে দুপুরে মির্জাগঞ্জ প্রেস ক্লাবের হলরুমে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে লিখিত বক্তব্যে সদ্যঘোষিত কমিটি বাতিল করে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলন ও সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মির্জাগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মিজানুর রহমান সুজন হাওলাদার, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. বাবুল মুন্সি, শাহীন ফরাজীসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।
বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের অভিযোগ, যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়নের অনুমোদিত সাত সদস্যের আংশিক কমিটিতে দীর্ঘদিন ধরে হামলা-মামলা ও জেল-জুলুম সহ্য করে রাজপথে থাকা নেতাকর্মীদের বঞ্চিত করা হয়েছে।
তাদের দাবি, ব্যক্তিস্বার্থ ও অনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমে অরাজনৈতিক ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়েছে।
বক্তারা অভিযোগ করেন, গাজী রাশেদ শামসকে উপজেলা যুবদলের সভাপতি করা হলেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয়। এছাড়া, ইঞ্জিনিয়ার মহসীন হাদীকে সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। তিনি চাকরিজীবী এবং আগে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না বলেও দাবি করেন তারা। তার পদ পাওয়ার পেছনে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও করেছেন বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা।
তারা আরো অভিযোগ করেন, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মইনুল ইসলাম শাহীনকে যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে। তাদের দাবি, জ্যেষ্ঠ ও দীর্ঘদিনের রাজপথের নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে অপেক্ষাকৃত জুনিয়র একজন নেতাকে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়ায় সাংগঠনিক অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
এছাড়া, ইব্রাহিম হোসেন জুয়েল মৃধাকে দপ্তর সম্পাদক করার বিষয়েও আপত্তি জানান বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি, ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর ২১৮টি ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হওয়া জুয়েল মৃধার বিরুদ্ধে মাদকের মামলা চলমান রয়েছে। এমন একজনকে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়ায় সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাজপথের পরীক্ষিত, পরিচ্ছন্ন ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের কথা বলেছেন। কিন্তু মির্জাগঞ্জে তার নির্দেশনা উপেক্ষা করে ‘পকেট কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। এতে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে।
তারা অবিলম্বে কমিটি বাতিল করে ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের দাবি জানান। দাবি মানা না হলে তারা আরো কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন