প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল পরিচালনা সহজতর করার উদ্দেশ্যে এবং চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা ও স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করার পাশাপাশি তাতে বিনিয়োগের ক্ষমতা প্রদানের লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (দ্বিতীয় সংশোধন) বিল, ২০২৬ আজ জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন। এর পর বিলটি অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়।
কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
বিলে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশে উচ্চশিক্ষা, চিকিৎসা গবেষণা এবং উন্নত স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯৯৮-এর বিধান অনুসারে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল।
পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে একটি সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল নির্মাণ করা হলেও, হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি, কারণ সেখানে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও সহায়ক জনবলের অভাব এবং সুস্পষ্ট পরিচালন কাঠামো নেই।
হাসপাতালটির কার্যকর পরিচালনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর অধীনে পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত নেয়। এর ফলে বিদ্যমান আইনে সংশোধন আনা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।
প্রস্তাবিত সংশোধনীতে বিশ্ববিদ্যালয়কে চিকিৎসা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণের লক্ষ্যে লাভজনক অথবা অলাভজনক কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান গঠন করার ক্ষমতা, সেসব প্রতিষ্ঠানে শেয়ার ক্রয়, ধারণ ও হস্তান্তরের ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের ক্ষমতা সুস্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করা, কোম্পানিগুলোর পরিচালনা বিধি তৈরির বিধান, সেগুলোর আয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিলে অন্তর্ভুক্ত করার বিধান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিল থেকে বিনিয়োগের শর্তাবলী পরিষ্কারভাবে নির্ধারণের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
বিলে বলা হয়েছে, এই কাঠামোর আওতায় আন্তর্জাতিক মানের বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হলে দেশি-বিদেশি খ্যাতনামা চিকিৎসক, শিক্ষক ও গবেষকদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি, জ্ঞান ও দক্ষতা দেশে স্থানান্তরের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
সরকারের বিশ্বাস যে, এই উদ্যোগের ফলশ্রুতিতে চিকিৎসা প্রশিক্ষণের কার্যক্রম রেসিডেন্সি, ফেলোশিপসহ আরও শক্তিশালী হবে। শিক্ষার্থীরা উন্নত ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবে এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন চিকিৎসক, গবেষক ও স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবী গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
বিলে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, এসব কোম্পানি থেকে অর্জিত আয় পুনরায় বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা, শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমে বিনিয়োগ করা যাবে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক একাডেমিক উৎকর্ষ অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন