প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ময়মনসিংহের এক প্রকৌশলী অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি নিজ কার্যালয়ে বসে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কাছে ঘুষ দাবি করেছেন। অভিযুক্ত প্রকৌশলীর নাম আতিকুর রহমান। তিনি শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের ময়মনসিংহ কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী -২ (সিভিল) হিসেবে কর্মরত আছেন। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বেলা বারোটার দিকে এ ঘটনা ঘটে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের ময়মনসিংহ কার্যালয়ে।
অভিযোগকারী ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের নাম এসটি এইচই (জেবি)। এ প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী মফিজুল ইসলাম ও সুপারভাইজার শরাফত আলী সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন। লিখিত অভিযোগে তারা উল্লেখ করেন, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এসটি এইচই ২০২৩-২০২৪ অর্থ বছরে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার কিল্লা বোকাইনগর ফাজিল মাদরাসার চার তলা ভবন নির্মাণের কাজ পায়। ২ কোটি ৯৮ লাখ টাকার এ কাজটি সম্পন্ন করার মেয়াদ ছিল তিন বছর। যথাসময়ে কাজটি শেষ করে মাদরাসা কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দেয় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। কিল্লা বোকাইনগর ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ছায়ীদুল হক যথাসময়ে কাজটি সম্পন্ন হওয়ার পর তিনি নবনির্মিত ভবনটি বুঝে পেয়েছেন উল্লেখ করে প্রত্যায়ন দেন। মোহাম্মদ ছায়ীদুল হক বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) মোবাইল ফোনে জানান, কাজটি যথাসময়ে শেষ হয়েছে এবং ভবনটি আমরা বুঝে পেয়েছি।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কাজ চলাকালীন সময়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের ১০ শতাংশ বিল জমানত হিসেবে জমা থাকে। কাজ সম্পূর্ণ শেষ হওয়ার পর সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান সে ১০ শতাংশ বিল পরিশোধ করে। সে হিসেবে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩০ লাখ টাকা জমা ছিল ময়মনসিংহ শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে। বৃহস্পতিবার বেলা বারোটার দিকে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী মফিজুল ও সুপারভাইজার শরাফত ময়মনসিংহের শিক্ষা প্রকৌশলী অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী আতিকুর রহমানের কাছে যান জমানতের ওই টাকা আনতে। ওই সময় আতিকুর রহমান জামানতের টাকা ফেরত দেওয়ার আগে ৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। পরে আতিকুর রহমান ৫০ হাজার টাকা দিতে রাজি হলেও তিনি এ টাকা না নিয়ে ৫ লাখ টাকাই দিতে বলেন। পরবর্তীতে মফিজুল ও শরাফত টাকার চেক না নিয়েই ফিরে যান।
এ বিষয়ে মফিজুল আরও বলেন, ৫ লাখ টাকা দাবি করলে আমি প্রতিষ্ঠানের মালিক হাফেজ মোহাম্মদ আজিজুল হককে জানাই। তিনি ৫০ হাজার টাকা দিতে বলেন। পরে আমি ৫০ হাজার টাকা দিতে চাইলে প্রকৌশলী আতিকুর সে টাকা নেননি।
ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এসটি এইচই’র সত্বাধিকারী হাফেজ মোহাম্মদ আজিজুল হক বলেন, প্রায় ৩০ লাখ আটকে ছিল। যে কারণে অবৈধভাবে ৫০ হাজার টাকা দিতে রাজি হই। কিন্তু প্রকৌশলী আতিকুর রহমান সেটা নেননি। পরে আমি সরকারি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ফোনে বিষয়টি অবহিত করেছি।
প্রকৌশলী আতিকুর রহমান নিজের বিরুদ্ধে আনা এ অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা দাবি করে বলেন, কিল্লা বোকাইনগর ফাজিল মাদরাসার চার তলা ভবনটি আমরা প্রতিষ্ঠানকে বুঝিয়ে দিলেও এখানে কাজের ত্রুটি পাওয়া গেছে। যে কারণে জমা থাকা ১০ শতাংশ বিল দেওয়া হয়নি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন