প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক হাফিজ আশরাফুল হককে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
রবিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চেয়ারম্যানের কক্ষ, শ্রেণিকক্ষ ও অফিস কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। পরে উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে ব্যানার টাঙিয়ে অবস্থান নেন তারা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিভাগটিতে দীর্ঘদিন ধরে সেশনজট ও প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা চলছে। সেশনজট নিরসনে চেয়ারম্যান একাধিকবার লিখিত আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। প্রতিবছর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা করে উন্নয়ন ফি নেওয়া হলেও গত ১০ বছরে শ্রেণিকক্ষে পর্দা লাগানো ছাড়া দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন হয়নি। এছাড়া শিক্ষা কার্যক্রমে পক্ষপাতিত্ব এবং শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানে চেয়ারম্যানের উদাসীনতাও রয়েছে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী কাজী মনোয়ার বলেন, ‘এর আগেও সেশনজট নিরসনের লিখিত আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। আজ প্রক্টরের মাধ্যমে উপাচার্যের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হয়েছে। তিনি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের সাথে বসবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন। তবে আমাদের মূল দাবি, চেয়ারম্যানকে বিভাগ থেকে অপসারণ করতে হবে।’
আরেক শিক্ষার্থী তাহসিন বলেন, ‘বহুবার যোগাযোগ করেও কোনো ফলপ্রসূ সমাধান পাইনি। আমাদের একটাই দাবি, তিনি সসম্মানে বিভাগ থেকে সরে দাঁড়ান।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক মেহদী হাসান সোহাগ বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেছি। তাদের নিয়ে আগামীকাল (সোমবার) বসব। তাদের সাথে আলোচনার পর বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ বিষয়ে বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক হাফিজ আশরাফুল হক বলেন, ‘মূলত শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষক সংকটের কারণেই এ জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞানভিত্তিক একটি বিষয় এত কমসংখ্যক শিক্ষক দিয়ে পরিচালিত হওয়ার নজির খুবই বিরল। প্রয়োজনের তুলনায় শিক্ষক সংখ্যা অত্যন্ত কম হওয়ায় বিদ্যমান শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত অ্যাকাডেমিক চাপ তৈরি হচ্ছে এবং একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশিত অ্যাকাডেমিক সেবা নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে পড়ছে। সঠিক তথ্যের অভাবে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ভুল ধারণা করছে।’
তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, ব্যক্তি বা পদকে কেন্দ্র না করে না করে আমাদের উচিত মূল সমস্যাগুলো কী এবং সেগুলোর স্থায়ী সমাধান কীভাবে করা যায় তা নিয়ে আলোচনা করা। শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি ও অ্যাকাডেমিক স্বার্থই হওয়া উচিত আমাদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন