প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডাভিত্তিক স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান ‘পাওয়ারাস’ ইরানের সস্তা ড্রোনের মোকাবিলায় আরও কম খরচের প্রতিরক্ষা ড্রোন তৈরি করছে। প্রতিষ্ঠানটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি কারখানায় থ্রিডি প্রিন্টারে তৈরি যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে ‘গার্ডিয়ান’ নামের এসব ড্রোন উৎপাদন করছে। প্রতিটি ড্রোনের দাম প্রায় ৫ হাজার ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।
‘গার্ডিয়ান’ নামের এই ‘মার্কিন ড্রোন’ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২০০ মাইল গতিতে উড়তে সক্ষম। লেগোর মতো সহজে জোড়া লাগানোর উপযোগী নকশা করা এই ড্রোনের প্রধান লক্ষ্য হলো আকাশে ইরানের শাহেদ ড্রোনগুলো ধ্বংস করা।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে নকশা ও উৎপাদন পদ্ধতিতে অনুপ্রেরণা গ্রহণ করা হয়েছে এসব ড্রোন তৈরির ক্ষেত্রে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর বেসামরিক অবকাঠামোতে ধারাবাহিক হামলা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে দ্রুত ও কম খরচে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। সেই চাহিদা পূরণে প্রচলিত ধীরগতির প্রতিরক্ষা উৎপাদনব্যবস্থার বাইরে গিয়ে স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা কাজে লাগাচ্ছে পাওয়ারাস।
বর্তমানে আমিরাতের কারখানায় ফিলিপাইন ও চীন থেকে আসা কর্মীরা প্রতিদিন প্রায় ৩০টি ড্রোন তৈরি করছেন। প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন সক্ষমতা প্রতিদিন ১০০টি ড্রোনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে কারখানার একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলে ২০২৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে প্রতি মাসে ১৫ হাজার ড্রোন উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে পাওয়ারাস।
মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাস অবকাঠামোর সুরক্ষায় সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি ২ কোটি ২০ লাখ ডলারের একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। পাশাপাশি ভারতের মুম্বাইয়ের কাছাকাছি এলাকায় একই ধরনের ড্রোন উৎপাদনের কাজ শুরু করেছে তারা।
কম খরচে দ্রুত অস্ত্র উৎপাদনের এই প্রবণতা বড় প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দ্রুত অস্ত্র সরবরাহের চাপের মধ্যে লকহিড মার্টিন ও রেথিয়নের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোও কম ব্যয়ে যৌথভাবে অস্ত্র উৎপাদনের দিকে এগোচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ৫ হাজার ডলারের গার্ডিয়ান ড্রোন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে সক্ষম নয়। তবে এটি ইরানের শাহেদ ড্রোনের মতো তুলনামূলক কম খরচের আকাশযান মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে তুলনামূলক কম ব্যয়ে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতি পূরণেও এ ধরনের ড্রোন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
উল্লেখ্য, ইরানের শাহেদ সিরিজের ‘কামিকাজে’ ড্রোন বর্তমানে যুদ্ধক্ষেত্রে এক ভয়ংকর আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এর রয়েছে জ্বালানিসাশ্রয়ী ইঞ্জিন, রাডার এড়িয়ে যাওয়ার সক্ষমতা এবং ৪০ থেকে ৫০ কেজি বিস্ফোরক বহনের ক্ষমতা। মাত্র ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার মার্কিন ডলারে একটি শাহেদ ড্রোন তৈরি করা যায়।
আশ্চর্যের বিষয় হলো ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের সময় এসব ড্রোনের বেশির ভাগ ভূপাতিত করা হলেও ইরানের জন্য তা একধরনের জয় হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। কারণ, মাত্র ২০ হাজার ডলারের একটি ড্রোন ধ্বংস করতে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রায় ৪০ লাখ (৪ মিলিয়ন) ডলার মূল্যের শক্তিশালী রকেট খরচ করতে হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন