প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপর যুক্তরাজ্যের সার্বভৌমত্বের প্রতি মার্কিন সমর্থন পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সামনে এই মন্তব্য করেন, যা ওয়াশিংটন ও লন্ডনের মধ্যে বহুল আলোচিত বিশেষ সম্পর্কের মধ্যে নতুন টানাপোড়েন সৃষ্টি করতে পারে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে, ট্রাম্প বলেন, দক্ষিণ আটলান্টিকের এই দ্বীপপুঞ্জটির ওপর যুক্তরাজ্যের অবস্থান পর্যালোচনা করা হচ্ছে কি না, তিনি সব সময়ই প্রতিটি অবস্থান পর্যালোচনা করে দেখেন এবং এটিও তেমনই অনেকগুলোর মধ্যে একটি।
ঐতিহাসিকভাবে, যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের এই দ্বীপপুঞ্জটির ওপর দাপ্তরিকভাবে একটি নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখে আসছে, তবে বাস্তবে দেশটি ব্রিটিশ শাসনকেই স্বীকৃতি দিয়ে থাকে। ১৭শ শতাব্দীর শেষের দিকে যুক্তরাজ্য প্রথম এই দ্বীপপুঞ্জটি দাবি করে এবং ১৮৩৩ সাল থেকে প্রায় অবিচ্ছিন্নভাবে এটি নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। ১৯৮২ সালে আর্জেন্টিনা অঞ্চলটি আক্রমণ করলে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রেক্ষিতে যুক্তরাজ্য সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের সরকারের ওপর প্রতিরক্ষা বাজেট বৃদ্ধি এবং ন্যাটোতে অবদান বাড়ানোর জন্য চাপ প্রয়োগ করতে ট্রাম্প এই সীমান্ত বিরোধটিকে একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন। গত সপ্তাহে দ্য টেলিগ্রামকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এক নাম প্রকাশ না করা মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ব্রিটেন যদি তার প্রতিরক্ষা ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হয়, তবে ওয়াশিংটন এই দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে তার অবস্থান বদলে ফেলতে পারে। ২৮ অক্টোবর যুক্তরাজ্যের অর্থমন্ত্রী জন হিলি তার প্রথম বাজেট পেশ করার কথা রয়েছে, যেখানে ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা খাতে জিডিপির তিন শতাংশ বরাদ্দ করার পূর্ব প্রতিশ্রুতি থেকে ব্রিটেন সরে আসতে পারে বলে গুঞ্জন ওঠার পরপরই ট্রাম্পের দিক থেকে এই রাজনৈতিক চাপটি এলো।
ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের উভয় মেয়াদেই মার্কিন মিত্রদের প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়াতে এবং ন্যাটোতে চাঁদার পরিমাণ বাড়াতে কঠোর চাপ প্রয়োগ করে আসছেন। অন্যান্য দেশকে বিনামূল্যে সুবিধা ভোগকারী হিসেবে অভিযুক্ত করার ধারাবাহিকতায় গত বছর হেগ সম্মেলনে ন্যাটো মিত্ররা ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত ব্যয়ে জিডিপির পাঁচ শতাংশ খরচ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এর আগে গত এপ্রিল মাসে পেন্টাগনের একটি ফাঁস হওয়া ইমেইলে দেখা গিয়েছিল যে, ট্রাম্পের ইরান নীতিতে ব্রিটেনের সমর্থনের অভাবের জবাব হিসেবে দেশটির ফকল্যান্ড দাবির বিষয়টি পুনর্বিবেচনার প্রস্তাব রাখা হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্র যদি ফকল্যান্ডের ওপর থেকে তার সমর্থনের অবস্থান সরিয়ে নেয়, তবে তা হবে ব্রিটেনের সার্বভৌমত্ব ভাবমূর্তির জন্য একটি বড় ধরনের মনস্তাত্ত্বিক ধাক্কা। ১৯৮২ সালে আর্জেন্টিনার আক্রমণের পর তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচারের সরকার একটি নৌ টাস্কফোর্স পাঠিয়ে দ্বীপটি পুনরুদ্ধার করে। সেই সময়ে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগান আর্জেন্টিনার সামরিক জান্তার সাথে সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও থ্যাচার সরকারের পক্ষে শক্ত কূটনৈতিক অবস্থান নিয়েছিলেন। সেই যুদ্ধে প্রায় ৬৪৯ জন আর্জেন্টিনীয় এবং ২৫৫ জন ব্রিটিশ সামরিক সদস্য নিহত হয়েছিলেন।
সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প আর্জেন্টিনার পপুলিস্ট প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইয়ের খুব কাছাকাছি এসেছেন, যিনি গত বছরের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের অভিষেক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অর্থনৈতিক সংকটে পড়া আর্জেন্টিনাকে ২০ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক সহায়তার অনুমোদন দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে শর্ত ছিল পরবর্তীতে মিলেইয়ের দলকে সংসদীয় নির্বাচনে জয়ী হতে হবে। জরিপকারীদের পূর্বাভাস ভুল প্রমাণ করে সেই নির্বাচনে মিলেইয়ের দল জয়লাভ করে এবং পরক্ষণেই ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে আর্জেন্টিনার গরুর মাংস আমদানির অনুমতি দেন।
ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপর আর্জেন্টিনার দাবির পক্ষে প্রেসিডেন্ট মিলেই শুরু থেকেই সোচ্চার। তবে অন্যদিকে ২০১৩ সালের এক গণভোটে ফকল্যান্ডের ১৫১৭ জন ভোটারের মধ্যে ১৫১৩ জনই যুক্তরাজ্যের অংশ হিসেবে থাকার পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। এই ভূখণ্ড নিয়ে জনগণের আবেগ কতটা তীব্র, তা দেখা গিয়েছিল গত জুলাই মাসে ফুটবল বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ২-১ গোলে জয়ের পর। তৎকালীন উদযাপনের সময় আর্জেন্টিনীয় ফুটবলাররা ফকল্যান্ড আর্জেন্টিনার লেখা একটি ব্যানার প্রদর্শন করেছিলেন।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন