প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন:- ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজে অনুষ্ঠিত মাঘমেলা ২০২৬ এর পবিত্র প্রাঙ্গণে ঘটেছে এক অত্যন্ত নিন্দনীয় ও ভীতিকর ঘটনা। মাঘ মেলায় অংশগ্রহণকারী এক হিন্দু সাধুর মুখে দাড়ি থাকার ভিত্তিতে তাঁকে ‘মুসলিম’ সন্দেহে আটক করা হয় এবং একদল উগ্র হিন্দুত্ববাদী সন্ত্রাসী তাঁকে প্রকাশ্যে উলঙ্গ করে তাঁর ধর্মীয় পরিচয় নির্ধারণের চেষ্টা চালায়।
প্রধান স্নানের দিনে লক্ষ লক্ষ পূণ্যার্থীর ভিড়ের মধ্যে ঘটে এই ভয়াবহ ঘটনা। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই সাধুর দীর্ঘ দাড়ি ও বাহ্যিক চেহারার কারণে কয়েকজন উত্তেজিত ব্যক্তি তাঁকে সন্দেহভাজন হিসেবে বিবেচনা করে। পরিচয়পত্র দেখানোর পরও জনতা শান্ত হয়নি; বরং তারা ক্রমশ ক্রুদ্ধ হয়ে ওঠে।
মেলা প্রাঙ্গণে পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে এবং জনতার চাপের কারণে ঐ সাধুকে নিজের হিন্দু ধর্মীয় পরিচয় প্রমাণ করার জন্য জনসম্মুখে ধুতি খুলতে বাধ্য করা হয়। এ সময় তিনি ভীত ও অপমানিত হয়ে পড়েন, এবং আধ্যাত্মিকতার নামে ঘটনাটি এক নগ্ন ধর্মীয় সন্ত্রাসে রূপ নেয়।
ঘটনার পর মেলা প্রাঙ্গণে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সাধুসমাজ এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলি অভিযোগ তুলেছে যে, এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং উগ্র হিন্দুত্ববাদী মনোভাবের প্রকাশ।
এমন পরিস্থিতিতে যেখানে সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে প্রকাশ্যে উলঙ্গ করা হচ্ছে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাঁদের মতে, দাড়ি, পোশাক বা চেহারা এখন ধর্ম নির্ধারণের হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জেলা প্রশাসন এবং মেলা কর্তৃপক্ষ ঘটনার গুরুত্ব কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করেছে। পুলিশের দাবি, নিরাপত্তার জন্য পরিচয় যাচাই করা একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। তবে প্রশ্ন হচ্ছে, পরিচয় যাচাইয়ের নামে একজন সাধুকে প্রকাশ্যে উলঙ্গ করার অনুমতি কে দিল?
এই ঘটনা আবার একবার প্রমাণ করে যে, ঘৃণার রাজনীতি এখন শুধু ক্ষমতার করিডোরে নয়, বরং এটি জনগণের হাতে প্রবাহিত হয়ে এসেছে। আজ একজন সাধু, আগামীকাল কে?
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন