প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চট্টগ্রাম, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন মন্তব্য করেছেন, ‘বর্তমান সরকার দেশের পেশাজীবীদের যে কোনো ধরনের সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে আন্তরিক। চট্টগ্রামের আইনজীবীদের দীর্ঘদিন ধরে চেম্বারের যে সমস্যা রয়েছে তা সমাধানে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
আজ চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে নবীন আইনজীবীদের প্রশিক্ষণ সমাপনী সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আইনজীবীদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ মানুষের ভরসার জায়গা দেশের আইন প্রাঙ্গণ। তাই ভবন নির্মাণের পাশাপাশি আইনজীবীদের অন্যান্য সমস্যা সমাধানের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি তারিক আহমদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ এরশাদ উল্লাহ, এবং বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের এডহক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট নাজিম উদ্দিন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মঈনুদ্দীন।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ব্যারিস্টার মীর হেলাল নবীন আইনজীবীদের জন্য কিছু পরামর্শও প্রদান করেন, নিজের পেশাগত জীবনের স্মৃতিচারণ করে। তিনি বলেন, ‘আইনজীবী পেশা হিসেবে খুব সহজ, আবার খুব কঠিন। আপনারা আজকে যে যাত্রা শুরু করেছেন, সেটা আমি শুরু করেছিলাম ২০০৪ সালে। আমার সিনিয়র ছিলেন বাংলাদেশের অত্যন্ত প্রতিভাবান একজন আইনজীবী, যাকে ‘মাস্টার অব ফ্যাক্ট’ বলে সবাই চিনত খন্দকার মাহবুব উদ্দিন আহমেদ। আমি যখন উনার সঙ্গে জয়েন করলাম, আমাদের সময় ল-ইয়ার্সদের কোর্স তো অত ইনটেনসিভ না। মোটামুটি একটা কোর্স ছিল। চার বছর ল’ পড়ার পর বার কাউন্সিলের পরীক্ষা দিয়ে আমরা ঢুকেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘যে কয় বছর আইন পেশার সঙ্গে জড়িত ছিলাম, একটা অভিজ্ঞতা আমি আপনাদের শেয়ার করতে পারি—যত ট্রেনিং-ই হোক, যত রিসার্চের ব্যবস্থাই করা হোক, সবচেয়ে বড় ট্রেনিং এবং রিসার্চ হচ্ছে- যদি আপনি সিনিয়রের সঙ্গে থেকে তিনি কি কাজ করছেন, তা শিখতে পারেন, তাকে ফলো করতে পারেন এবং তিনি যে কেসগুলো ডিল করেন, এগুলো যদি আপনি নিজেই রিসার্চ করেন, এর বাইরে আর কোনো রিসার্চের প্রয়োজন হবে বলে আমি মনে করি না।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই প্রফেশনে ডিসিপ্লিনের কোনো বিকল্প নাই। যেহেতু আমি নিজে উকিল, আমার বাবাও এই বারেরই একজন সিনিয়র আইনজীবী। আমি দেখেছি, নিয়মানুবর্তিতা এবং সততা যদি না থাকে, এই পেশায় খুব বেশি দূর এগোনো যায় না। আর দুর্নীতিপরায়ণ হলে, এটা আসলে পেশার মধ্যেই পড়ে না। ওইটা অন্য কিছু হবে, হয়তো আর্থিকভাবে আপনি লাভবান হবেন। কিন্তু আইনজীবী হিসেবে আপনি যে জ্ঞান বা প্রজ্ঞাবান, সমাজের মানুষ আপনাকে যে ভাবে মনে করে, সেটা হয়ত আপনি অর্জন করতে পারবেন না।
অনুষ্ঠানের শেষে ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল নবীন আইনজীবীদের হাতে প্রশিক্ষণ সমাপনী সনদপত্র তুলে দেন।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল থেকে অ্যাডভোকেটশিপ সনদ অর্জন করে চলতি বছর ১১১৩ জন নবীন আইনজীবী চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যপদ লাভ করেন। তাদের পেশাগত উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ৪ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন