প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইরানের সঙ্গে ইসরাইল ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে চলমান চরম বৈরিতা এবং সামরিক সংঘাত সত্ত্বেও, তেহরানের ইহুদিদের দৈনন্দিন জীবন এবং শিক্ষা কার্যক্রমে একটি ভিন্ন চিত্র প্রকাশ পেয়েছে। তেহরানের একটি ইহুদি অধ্যুষিত বিদ্যালয়ে, ইহুদিদের ধর্মীয় প্রতীকের পাশে সম্মানের সঙ্গে টাঙানো রয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছবি।
মার্কিন প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর একটি বিশেষ অনুসন্ধানী ভিডিও প্রতিবেদনে, ইরানের রাজধানী তেহরানের ইহুদিদের জীবনযাত্রার এই ব্যতিক্রমী ও বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনে তেহরানের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ‘মুসা ইবনে ইমরান’ বালক বিদ্যালয়ের পরিদর্শনের দৃশ্য দেখানো হয়েছে। সেখানে শ্রেণিকক্ষের দেয়ালে একদিকে ইহুদি সংস্কৃতির একটি প্রধান প্রতীক ঐতিহ্যবাহী মেনোরাহ এবং ঠিক তার পাশেই রয়েছে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির প্রতিকৃতি।
বিদ্যালয়টিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় সকলেই ইহুদি ধর্মাবলম্বী। তবে সেখানে শিক্ষকতায় নিয়োজিত রয়েছেন ইহুদি ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের শিক্ষকেরা। ইরানি সাধারণ জাতীয় পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি, শিক্ষার্থীরা সেখানে তাদের ধর্মীয় অনুশাসন এবং হিব্রু ভাষার পাঠ গ্রহণ করছে। ধর্মীয় উৎসবের নির্দেশিকাগুলোও তাদের ফার্সি ও হিব্রু—উভয় ভাষায় শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে।
একইভাবে, ইহুদি বালিকা বিদ্যালয়ের পরিবেশেও ধর্ম এবং স্থানীয় সংস্কৃতির এক অদ্ভুত মেলবন্ধন তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে শিক্ষার্থীরা ফার্সি জনপ্রিয় গানের সঙ্গে মেতে ওঠার পাশাপাশি নিয়ম মেনে হিজাব পরিধান করছে, যা দেশের নিয়ম অনুযায়ী সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য। শিক্ষার্থীরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, মুসলিম ও ইহুদিদের মধ্যে স্থানীয়ভাবে কোনো শত্রুতা নেই; বরং তারা পরস্পরের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে দীর্ঘদিন ধরে শান্তিতে বসবাস করে আসছে।
সিএনএন-এর প্রতিনিধি জানান, বাহ্যিকভাবে পশ্চিমা বিশ্বে ইরান সম্পর্কে যে ধরনের ধারণা প্রচলিত রয়েছে, তেহরানের ইহুদি স্কুলের এই দৃশ্যপট তার সম্পূর্ণ বিপরীত এবং অপ্রত্যাশিত।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন