প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক পিএলসির প্রস্তাবিত সাংগঠনিক কাঠামো (অর্গানোগ্রাম)-২০২৫ দ্রুত অনুমোদনের দাবী জানিয়েছেন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক কর্মকর্তা ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ। সংগঠনটির দাবি হল, দীর্ঘদিন ধরে অর্গানোগ্রাম অনুমোদন না হওয়ার কারণে ব্যাংকের নিয়মিত পদোন্নতি প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে পড়েছে। এতে হাজার হাজার কর্মকর্তা পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং প্রশাসনিক জটিলতা বাড়ছে।
শনিবার (২৭ জুন) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন লিখিত বক্তব্যে এই সব বিষয় তুলে ধরেন।
লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়েছে, ২০১৯ সালে জনতা ব্যাংকের ১ হাজার ৯২৬ জন কর্মকর্তাকে সুপারনিউমারারি ভিত্তিতে সিনিয়র অফিসার পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছিল। পরে ২০২২ সালের ২১ নভেম্বর সুপারনিউমারারি পদোন্নতি নিষিদ্ধ করার নির্দেশনা জারি করা হলেও তা উপেক্ষা করে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে আরও ৭ হাজার ২১৮ জন কর্মকর্তাকে একই ধরনের পদোন্নতি দেওয়া হয়। এর মধ্যে জনতা ব্যাংকের বিভিন্ন গ্রেডের ৫৭৯ জন কর্মকর্তা রয়েছেন।
সংগঠনটির দাবি, ২০২৫ সালের ৭ জুলাই আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠন ও সংশোধনের নির্দেশনা প্রদান করে। তার পরবর্তী সময়ে ১৪ অক্টোবর সুপারনিউমারারি পদোন্নতির বিষয়টি সমন্বয় না হওয়া পর্যন্ত নিয়মিত পদোন্নতি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
তাদের জানানো হয়, জনতা ব্যাংকের প্রস্তাবিত অর্গানোগ্রাম ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু এখনো এর অনুমোদন মেলেনি। অথচ ইতোমধ্যে সোনালী, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকের অর্গানোগ্রাম অনুমোদিত হয়েছে এবং জনতা ব্যাংক ছাড়া অন্য রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪কে কাট-অফ তারিখ ধরে নিয়মিত পদোন্নতি প্রদান করেছে। ফলে জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তারা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলে তাদের অভিযোগ।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়ে থাকে, ২০২৪ সালের শেষে পদোন্নতির জন্য যোগ্য কর্মকর্তার সংখ্যা ৫ হাজার ৮০২ জন ছিল। তবে ২০২৫ সালের শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ২৬৮ জনে। নতুন পদ সৃষ্টি না হওয়ায় পদোন্নতিযোগ্য কর্মকর্তার সংখ্যা ক্রমাগতভাবে বাড়ছে, যা প্রশাসনিক সংকট তৈরি করছে।
সংগঠনের মতে, প্রস্তাবিত অর্গানোগ্রাম অনুমোদিত হলে ব্যাংকের জনবল ১৮ হাজার ৩৭৩ জন থেকে বেড়ে ২১ হাজার ৮১৭ জন হবে। এতে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় ভারসাম্য ফিরবে, নিয়মিত পদোন্নতি নিশ্চিত হবে এবং গ্রাহকসেবা, ডিজিটাল ব্যাংকিং, এসএমই ও সিএমএসএমই কার্যক্রম, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং খেলাপি ঋণ আদায়ে গতি আসবে।
তাদের দাবি, নতুন অর্গানোগ্রাম বাস্তবায়নে তিন বছরে অতিরিক্ত ব্যয় হবে প্রায় ১৩ কোটি ৮২ লাখ টাকা, যা ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতার তুলনায় খুবই সামান্য।
সংবাদ সম্মেলন থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক কর্মকর্তা ঐক্য পরিষদ জনতা ব্যাংকের প্রস্তাবিত সাংগঠনিক কাঠামো (অর্গানোগ্রাম)-২০২৫ দ্রুত অনুমোদন এবং দীর্ঘদিনের পদোন্নতি জট নিরসনে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন