প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির আজারবাইজান ও ইরাক সফরের উদ্দেশ্যে যাচ্ছেন, যা মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বৃদ্ধি এবং মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে কূটনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্য নিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
তিনি আজ বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের জানান, "আমি আজ রাতে আজারবাইজানের উদ্দেশে রওনা দিচ্ছি। ১৫ থেকে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত সেখানে থাকব।" সফরের বিস্তারিত তুলে ধরার সময় তিনি বলেন, "আজ রাতে আমি আজারবাইজানের উদ্দেশে রওনা হব। ১৫-১৬ অক্টোবর সেখানে থাকব।"
আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে অনুষ্ঠিতব্য এশিয়ায় পারস্পরিক সহযোগিতা ও আস্থা বৃদ্ধির পদক্ষেপবিষয়ক সম্মেলনের (সিআইসিএ) আওতায় উচ্চপর্যায়ের সভায় অংশগ্রহণ করবেন বলেও জানান তিনি।
হুমায়ুন কবির বলেন, সভায় বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রনীতি, নিরাপত্তা ও সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারণী বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অংশ নেবেন।
সফরের কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন, "বাংলাদেশের এখন মধ্য এশিয়ার সঙ্গে আরও নিবিড় যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততা গড়ে তোলা প্রয়োজন।" তিনি এই অঞ্চলটিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির কার্যক্রম সম্প্রসারণের নতুন ক্ষেত্র ও মাত্রা হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, "পররাষ্ট্রনীতির দৃষ্টিকোণ থেকে মধ্য এশিয়া একটি নতুন ক্ষেত্র ও মাত্রা। আমরা সেখানে যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততা বাড়াচ্ছি।" বহির্বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক বহুমুখী করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত যোগাযোগ সম্প্রসারণের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি।
আজারবাইজান সফর শেষে ১৭ অক্টোবর ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে অংশ নিতে বাগদাদ যাবেন বলেও জানান হুমায়ুন কবির।
তিনি আরো বলেন, "আমি সেখানে অংশ নেব এবং আমাদের সরকারের পক্ষে প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেব।" ওআইসির ওই বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একটি বক্তব্যও দেবেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
হুমায়ুন কবির বলেন, "মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উল্লেখযোগ্য ভূরাজনৈতিক পরিবর্তনের এ সময়ে বাগদাদের বৈঠককে বাংলাদেশ বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।" দীর্ঘ কয়েক দশকের সংঘাত ও অস্থিতিশীলতার পর ইরাকে পরিবর্তনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, "দেশটিতে উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হচ্ছে।"
তিনি বলেন, "এ সময়ে বাগদাদ একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য। গত ২০ বছরে নানা অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাওয়ার পর সেখানে সুযোগ ও যোগাযোগের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।" দীর্ঘদিনের অস্থিতিশীলতায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো ধীরে ধীরে নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করায় ইরাকসহ বৃহত্তর অঞ্চলের সঙ্গে আরও সম্পৃক্ত হওয়ার সম্ভাবনা বাংলাদেশ খতিয়ে দেখবে বলেও জানান তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতার বিষয়ে বাংলাদেশের গভীর আগ্রহের কথা তুলে ধরে হুমায়ুন কবির বলেন, "এ অঞ্চলে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মী রয়েছেন।" তিনি বলেন, "মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বাংলাদেশের স্বার্থের সঙ্গে জড়িত। সেখানে আমাদের প্রায় ৮০ লাখ কর্মী রয়েছেন, যা একটি বিশাল কর্মীবাহিনী।"
বিশেষ করে অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে সংঘাত ও নিরাপত্তাঝুঁকির প্রেক্ষাপটে প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা, কল্যাণ ও সার্বিক মঙ্গল সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারগুলোর অন্যতম বলে জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, "মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা শুধু প্রবাসী বাংলাদেশিদের ওপরই নয়, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও জ্বালানিস্বার্থের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।" তিনি জানান, আঞ্চলিক সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজে বের করার লক্ষ্যে বর্তমানে বিভিন্ন কূটনৈতিক ও অনানুষ্ঠানিক মাধ্যমে তৎপরতা চলছে।
তিনি বলেন, "শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছাতে অনেক অংশীজন আনুষ্ঠানিক ও কূটনৈতিকভাবে কাজ করছেন। পাশাপাশি অনানুষ্ঠানিক ও পর্দার আড়ালের আলোচনাও চলছে।" জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ভূমিকার কথা উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, "মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় অবদান রাখার যেকোনো প্রস্তাব বাংলাদেশ ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে।"
তিনি বলেন, "মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য বাংলাদেশের কাছে যেকোনো প্রস্তাব এলে আমরা তা সব সময় ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করব।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন