প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কক্সবাজার-ঢাকা রেলপথ চালুর পর থেকে রেলে ভ্রমণের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হলেও, কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কক্সবাজারের চকরিয়া ও আশপাশের অন্তত ৭টি উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ। চকরিয়া রেলস্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি এবং স্থানীয় যাত্রীদের জন্য নির্দিষ্ট আসন বরাদ্দের দাবিতে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন সর্বস্তরের জনসাধারণ। মঙ্গলবার সকালে চকরিয়া রেলস্টেশন চত্বরে আয়োজিত এক বিশাল মানববন্ধনে উপস্থিত হাজারো মানুষ 'মহানগর এক্সপ্রেস' সহ সকল আন্তঃনগর ট্রেনের অবিলম্বে যাত্রাবিরতির জোর দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, চকরিয়া, পেকুয়া, কুতুবদিয়া, মাতামুহুরী, মহেশখালী, পার্বত্য অঞ্চলের লামা ও আলীকদম উপজেলাসহ আশপাশের ৭টি উপজেলার বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রতিদিন শিক্ষা, জরুরি চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও প্রশাসনিক কাজের জন্য ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াত করেন। অথচ চকরিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেন না থামায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। রেলে চড়তে মানুষকে এখন বাধ্য হয়ে ৬০ কিলোমিটার ঘুরে বিকল্প পথে কয়েক গুণ বেশি ভাড়া ও সময় ব্যয় করে দূরবর্তী কক্সবাজার রেলস্টেশনে যেতে হচ্ছে, যা রেলসেবার মূল উদ্দেশ্যকেই ব্যাহত করছে।
আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট দাবি—অবিলম্বে চকরিয়া রেলস্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি নিশ্চিত করতে হবে এবং সাত উপজেলার বিপুল জনসংখ্যার কথা বিবেচনায় রেখে প্রয়োজনীয় আসন বরাদ্দ রাখতে হবে। এতে করে এই বিশাল জনগোষ্ঠীর যাতায়াত সাশ্রয়ী, সহজ ও নিরাপদ হবে।
মানববন্ধনের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে কক্সবাজার জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ও মাতামুহুরী উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ইউসুফ বদরী বলেন, "চকরিয়ায় 'মহানগর এক্সপ্রেস'-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন না থামা মানেই পুরো অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষকে আধুনিক রেলসেবা থেকে বঞ্চিত রাখা। আমরা জনস্বার্থে অনতিবিলম্বে এখানে যাত্রাবিরতি বাস্তবায়নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি। দাবি মেনে নেওয়া না হলে আগামীতে আরও কঠোর ও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।"
মানববন্ধনের অন্যতম উদ্যোক্তা মাতামুহুরী উপজেলা যুবদল নেতা মামুনুর রশীদ বলেন, "এটি কোনো রাজনৈতিক দাবি নয়, এটি পুরো চকরিয়াবাসীর অস্তিত্ব ও অধিকারের দাবি। চকরিয়ায় ট্রেন থামলে এ অঞ্চলের মানুষের যাতায়াতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমরা দ্রুত ইতিবাচক পদক্ষেপের আহ্বান জানাচ্ছি।"
এদিকে, মানববন্ধনের খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মঙ্গলবার সকাল থেকেই চকরিয়া রেলস্টেশনে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। কক্সবাজার রেলওয়ে পুলিশের জিআরপি ক্যাম্পের ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশ, চকরিয়া থানা পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে ছিলেন।
রেলওয়ে পুলিশ কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান জানান, "সাধারণ মানুষের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের প্রতি আমাদের পূর্ণ সম্মান রয়েছে। তবে রেলওয়ের কোনো সম্পদ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এবং কোনো বিশৃঙ্খলা না ঘটে, সে বিষয়ে পুলিশ কঠোর নজরদারিতে রয়েছে।"
রেলস্টেশনের সার্বিক অবস্থা নিয়ে চকরিয়া রেলস্টেশনের স্টেশনমাস্টার মোহাম্মদ আবদুল মন্নান বলেন, "আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়েই বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী 'মহানগর এক্সপ্রেস' ট্রেনটি চকরিয়া স্টেশন অতিক্রম করে। কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়াই কর্মসূচি শেষ হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন