প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নেপাল সরকার বুধবার নিখোঁজ ব্যক্তিদের মৃত ঘোষণা করার জন্য বিদ্যমান আইনের সংশোধনের উদ্দেশ্যে একটি অধ্যাদেশ জারির সুপারিশ করেছে। সিংহ দরবারে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে দুর্যোগ–সম্পর্কিত কিছু আইন সংশোধন এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের মৃত ঘোষণা করার ক্ষেত্রে আইনি বাধা দূর করতে নতুন বিধান যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদসংস্থা এএনআই নিউজের তথ্য অনুযায়ী, সরকারের মুখপাত্র ও শিক্ষামন্ত্রী অসমিত পোখরেল সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, "বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তিকে মৃত ঘোষণা করতে হলে তাকে ১২ বছর ধরে নিখোঁজ থাকতে হয়। ভোতেকোশি বন্যার পরিস্থিতি বিবেচনায় এই সময় ৪৫ দিনে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।"
গত ২৬ আগস্ট নেপালে একটি ‘হিমালয়ান সুনামি’ আঘাত হানে। পাথর ও বরফ ধসে এই ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়। এতে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ মারা গেছেন। এখনও ৬ হাজারের বেশি মানুষের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকায় নিখোঁজদের সন্ধান ও উদ্ধারের কাজ চলছে। বন্যার ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞে ৭০ হাজারের বেশি মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অনেকেই ঘরবাড়ি হারিয়েছেন। আগস্টের বন্যায় তিব্বতের সীমান্তবর্তী উঁচু পাহাড়ি ঢালের বসতিগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হঠাৎ হিমবাহের পানি বেরিয়ে আসার পর বন্যার স্রোত আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। ওই এলাকার গুরুত্বপূর্ণ বসতি তিমুরে ও সিয়াফ্রু বেসি আকস্মিক বন্যায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়।
অবকাঠামো পুনর্গঠনে প্রায় ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার প্রয়োজন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই কাজ শেষ হতে অন্তত ১০ বছর সময় লাগতে পারে। গত ২৬ আগস্ট সকালে রাসুয়া জেলার নদীর তীরবর্তী বসতিগুলোতে বন্যা আঘাত হানে। পরে দ্রুত আশপাশের নুয়াকোট ও ধাদিংসহ অন্যান্য এলাকাতেও বন্যা ছড়িয়ে পড়ে।
বন্যায় অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। চালু থাকা আটটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প, যার মোট উৎপাদন ক্ষমতা ২৮ মেগাওয়াট, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নির্মাণাধীন আরো চারটি প্রকল্পও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব প্রকল্পের মোট উৎপাদন ক্ষমতা ৩৮৮ মেগাওয়াট। ফলে মোট ৪৩১ দশমিক ১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ব্যাহত হয়েছে। গালছি-বেত্রাবতী-রাসুওয়াগাধি সড়ক এবং পৃথ্বী মহাসড়কের বড় অংশ ধ্বংস বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ৪৮টি ঝুলন্ত সেতু এবং যান চলাচলের উপযোগী ৩১টি সেতুও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন