প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জাপান বিদেশিদের জন্য অভিবাসন এবং স্থায়ী বসবাসের নিয়ম আরও কঠোর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, দেশটিতে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতির ফি ২০ গুণ বেড়ে ২ লাখ ইয়েন নির্ধারণ করা হয়েছে। এই পরিবর্তনের ফলে দীর্ঘদিন ধরে জাপানে বসবাসরত অনেক বিদেশি তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
সিএনএনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অক্টোবর মাস থেকে নতুন ফি কার্যকর হবে। একই সঙ্গে, স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারী ব্যক্তিদের আয় গড় জাপানি পরিবারের আয়ের চেয়ে বেশি হতে হবে। আগামী বছরের এপ্রিল থেকে ৩০ বছরের পেনশন সুবিধার সমপরিমাণ তহবিল থাকার পাশাপাশি মধ্যবর্তী স্তরের জাপানি ভাষাজ্ঞানও আবশ্যক হবে।
বিদেশি উদ্যোক্তাদের জন্যও জাপান নিয়মগুলো কঠোর করেছে। ‘বিজনেস ম্যানেজার ভিসা’ এর জন্য প্রয়োজনীয় মূলধন ৫০ লাখ ইয়েন থেকে বাড়িয়ে ৩ কোটি ইয়েন করা হয়েছে।
গত বছর জাপানে বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা রেকর্ড ৪১ লাখে পৌঁছেছে, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। এর মধ্যে ৯ লাখ ৩০ হাজারের বেশি চীনা নাগরিক এবং প্রায় ৭০ হাজার মার্কিন নাগরিক জাপানে বসবাস করছেন।
বিদেশিদের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যবিমার অর্থ না দেওয়া, আবাসনের দাম বাড়ানো এবং ভুয়া কোম্পানি তৈরি করে বসবাসের অনুমতি নেওয়ার মতো অভিযোগের কারণে এসব নিয়ম কঠোর করা হয়েছে। অতিরিক্ত পর্যটন নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে ‘জাপান-ফার্স্ট’ রাজনীতির উত্থান ঘটেছে। অভিবাসনবিরোধী অবস্থান গ্রহণকারী ডানপন্থী দল সানসেইতোর জনপ্রিয়তা বেড়ে গেছে।
তবে নতুন নিয়ম নিয়ে বিদেশি বাসিন্দাদের পাশাপাশি ব্যবসায়ীরাও উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। কিছু ভারতীয় ও নেপালি রেস্তোরাঁর মালিক ভিসা নবায়ন না পাওয়ার কারণে ব্যবসা বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে, জনসংখ্যা ও কর্মী সংকট জাপানের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত বছর দেশটির প্রজনন হার ১ দশমিক ১৪-এ নেমে গেছে। ফলে, একদিকে কর্মী সংকট মোকাবিলায় বিদেশিদের প্রয়োজন, অন্যদিকে অভিবাসন নিয়ে বাড়তে থাকা জনঅসন্তোষ—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হচ্ছে জাপান সরকারের।
সূত্র:
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন