প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দেওয়ানবাগকে ঘিরে অতীতে বিভিন্ন আলেম-উলামা ও পীর-মাশায়েখের পক্ষ থেকে প্রকাশিত কঠোর সমালোচনা ও ধর্মীয় আপত্তির প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত একটি মাহফিলে কয়েকজন সুফিপন্থি হিসেবে পরিচিত পীর-মাশায়েখের উপস্থিতি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মাইজভান্ডার ও খান্দুরা দরবার শরীফের পীর সৈয়দ জুবায়ের কামালসহ কয়েকজন পীর-মাশায়েখ অনুষ্ঠানে উপস্থিত রয়েছেন। সেখানে তাদের আয়োজকদের সঙ্গে কুশল বিনিময়, কোলাকুলি এবং একই স্থানে বসে খাবার গ্রহণ করতেও দেখা যায়।
জানা গেছে, গত ৯ সেপ্টেম্বর রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবে পীর-মাশায়েখ ও সুফিদের নিয়ে আয়োজিত মীলাদুন্নবীর মাহফিলের ওই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বিশেষ করে প্রশ্ন উঠছে, দেওয়ানবাগকে ঘিরে অতীতে বিভিন্ন আলেম-উলামা ও পীর-মাশায়েখের পক্ষ থেকে যখন নানা ধরনের ধর্মীয় আপত্তি ও সমালোচনা করা হয়েছে, তখন সুফিপন্থি হিসেবে পরিচিত এসব ব্যক্তিরা কী উদ্দেশ্যে সেখানে উপস্থিত হলেন?
কারও কারও প্রশ্ন, এটি কি শুধুই সৌজন্য সাক্ষাৎ ও সামাজিক সম্পর্কের অংশ, নাকি এর পেছনে রয়েছে কোনো মতাদর্শিক বা সাংগঠনিক যোগাযোগ?
আবার কেউ কেউ জানতে চাইছেন, অনুষ্ঠানে উপস্থিতির মাধ্যমে তারা কি দেওয়ানবাগের কোনো কার্যক্রম বা মতাদর্শের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছেন?
সবচেয়ে বেশি আলোচনা দেখা যাচ্ছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার খান্দুরা দরবার শরীফের পীর সৈয়দ জুবায়ের কামালের উপস্থিতি নিয়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন পোস্ট ও মন্তব্যে তার ধর্মীয় ও মতাদর্শিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। এমনকি কেউ কেউ তার সুন্নিপন্থি অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
তবে এসব বক্তব্যের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কোনো দাবি বা মন্তব্যকে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ছাড়া সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা যায় না। একইভাবে, কোনো অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়া, কুশল বিনিময় কিংবা একই সঙ্গে খাবার গ্রহণের দৃশ্য থেকেই একজন ব্যক্তির আকিদা, মতাদর্শ বা ধর্মীয় পরিচয় সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোও সমীচীন নয়।
সৈয়দ জুবায়ের কামালসহ অনুষ্ঠানে উপস্থিত পীর-মাশায়েখরা কোন উদ্দেশ্যে সেখানে গিয়েছিলেন, অনুষ্ঠানের আয়োজকদের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক কী এবং দেওয়ানবাগের বিভিন্ন মতাদর্শিক অবস্থানের বিষয়ে তাদের নিজস্ব অবস্থান কী-এসব প্রশ্নের উত্তর মিললেই বিতর্কের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে।
একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যে ধর্মীয় অঙ্গনে তৈরি হয়েছে নানা আলোচনা ও কৌতূহল। এটি নিছক সৌজন্য সাক্ষাৎ, নাকি এর পেছনে রয়েছে বৃহত্তর কোনো মতাদর্শিক কিংবা সাংগঠনিক যোগাযোগ এখন সেই প্রশ্নের উত্তরই খুঁজছেন অনেকে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন