প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (শেবাচিম) নিউরোমেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ অমিতাভ সরকারের বিরুদ্ধে সরকারি দায়িত্ব পালনে অনিয়ম, অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে কমিশন গ্রহণ এবং রোগীদের নির্দিষ্ট বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানোর মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য সচিব এবং বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, নিউরোমেডিসিন বিশেষজ্ঞ হিসেবে বরিশালে ব্যাপক পরিচিতি ও বিপুল রোগীর চাপকে কেন্দ্র করে কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে তার প্রভাবশালী অবস্থান তৈরি হয়েছে। যদিও চিকিৎসাসেবায় দক্ষতা রয়েছে, তবুও বিভিন্ন আর্থিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগে সাধারণ রোগীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও অনেক রোগীকে সিটি স্ক্যান, এমআরআইসহ বিভিন্ন ব্যয়বহুল পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিটি সিটি স্ক্যান ও এমআরআই পরীক্ষা থেকে ১ হাজার টাকা এবং অন্যান্য পরীক্ষা থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে তার রেফারেন্সে ভর্তি হওয়া রোগীদের বেড ভাড়া থেকে ৭ থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন নেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের প্রতিবার রাউন্ড দেওয়ার জন্য ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত ফি নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, রোগীদের নির্দিষ্ট ফিজিওথেরাপি সেন্টারে পাঠিয়ে সেখান থেকেও আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করা হয়। এমনকি প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও কিছু রোগীকে ফিজিওথেরাপির পরামর্শ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ এবং তাদের সৌজন্যে বিদেশ ভ্রমণের অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে।
সরকারি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও ডাঃ অমিতাভ সরকারের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সকালে শেবাচিম হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে ফিঙ্গারপ্রিন্ট হাজিরা দেওয়ার পর তিনি হাসপাতাল ত্যাগ করেন। পরে সীমিত সময় সরকারি দায়িত্ব পালন করে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখতে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল নগরীর রাহাত আনোয়ার হাসপাতাল, কেএমসি হাসপাতাল এবং বেলভিউ হাসপাতালে তিনি নিয়মিত রোগী দেখেন। প্রতিদিন গড়ে ৩৫০ থেকে ৪০০ রোগীকে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে শেবাচিম হাসপাতালের রোগীদের বিভিন্ন মাধ্যমে নির্দিষ্ট বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে পাঠানোর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা নিউরোমেডিসিন বিভাগের রোগীদের একটি অংশকে নির্দিষ্ট বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়।
লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, রাজনৈতিক ও পেশাগত প্রভাব ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে শেবাচিম হাসপাতালে পূর্ণাঙ্গ নিউরোমেডিসিন বিভাগ গঠনে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে। একই সঙ্গে রোগীর সংখ্যা ও ব্যক্তিগত প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে নগরীর কয়েকটি বেসরকারি চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানের ওপর প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও উঠেছে।
সম্প্রতি বেলভিউ হাসপাতালের পরিচালনা পর্ষদের বিভিন্ন বিষয়ে হস্তক্ষেপ এবং কম মূল্যে হাসপাতালের শেয়ার কেনার অভিযোগও সামনে এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, রোগীর চাপকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতাল তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
এছাড়া ডাঃ অমিতাভ সরকারের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ আয় গোপন করে রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগও করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, তার আয়কর নথি অডিটে অনিয়ম ধরা পড়ার পর মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হয়েছে। অভিযোগকারীরা তার আয়কর নথি পুনরায় তদন্ত ও নিরীক্ষার দাবি জানিয়েছেন।
মোঃ মাসুম নামে এক ব্যক্তি সম্প্রতি স্বাস্থ্য সচিব ও বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) সভাপতির কাছে ডাঃ অমিতাভ সরকারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগপত্রে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগকারী দ্রুত তাকে শেবাচিম থেকে বদলি করা এবং উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
তবে ডাঃ অমিতাভ সরকারের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর জন্য তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়েছে। তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে তার বক্তব্য পাওয়া গেলে দ্বিতীয় সাংবাদে তুলে ধরা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন