প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আজ শুক্রবার রাতে রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় একটি হোটেলে ‘বরিশাল জেলা সমিতি, ঢাকা’ কর্তৃক আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী ও গুণীজন সম্মাননা-২০২৬ অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। ছবির উৎস : পিআইডি
ভোলার প্রাকৃতিক গ্যাসের ভিত্তিতে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে পরিকল্পিতভাবে শিল্প কলকারখানা প্রতিষ্ঠা সম্ভব বলে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এমপি জানিয়েছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘যেকোনো বড় বিনিয়োগের প্রথম শর্ত জ্বালানি অবকাঠামো ও নিরাপত্তা। দক্ষিণ অঞ্চলে জ্বালানি সম্পদ বিদ্যমান থাকার ফলে এখানে অর্থনৈতিক রূপান্তরের জন্য বিশাল সুযোগ তৈরি হয়েছে।’
আজ শুক্রবার রাতে ঢাকায় তেজগাঁওয়ের একটি হোটেলে ‘বরিশাল জেলা সমিতি, ঢাকা’ আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে এমন বক্তব্য রেখেছেন মন্ত্রী।
সমিতির সভাপতি ড. এনায়েত করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান এমপি, এবং বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।
দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত উন্নয়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ভোলায় যে গ্যাস বিদ্যমান, এ গ্যাসকে কেন্দ্র করে দক্ষিণাঞ্চলে নতুন শিল্প কলকারখানা তৈরি করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে। বিনিয়োগকারীরা যে কোনো অঞ্চলে বিনিয়োগ করার আগে মূলত দুটি বিষয় চায়- রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং জ্বালানি নিরাপত্তা। যেহেতু দক্ষিণ বাংলায় এই জ্বালানি সম্পত্তি রয়েছে, তাই এটি পরিকল্পিতভাবে দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে ব্যবহার করা উচিত।’
মন্ত্রী আরও বলেন, এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত উন্নয়ন বিষয়গুলি কেবল রাজনৈতিক দল বা ক্ষমতাসীনদের এজেন্ডাতে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। বরিশাল জেলা সমিতির মতো সামাজিক ও নাগরিক সংগঠনগুলোকেও এই দাবিগুলো এবং সম্ভাবনাগুলো নীতি-নির্ধারকদের সামনে জোরালোভাবে উত্থাপন করতে হবে।
দক্ষিণাঞ্চলের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার বিষয়ে জহির উদ্দিন স্বপন মন্তব্য করেন, পদ্মা সেতু পার হয়ে ভাঙ্গাই পর্যন্ত যে উন্নত সড়ক রয়েছে, সেটি কুয়াকাটা পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হয়নি। এই সড়কের সম্প্রসারণ অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায়, দক্ষিণাঞ্চলে যানবাহনের এই বিশাল প্রবাহ সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বৃদ্ধি করবে।
পায়রা সমুদ্র বন্দরকে বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য একটি ‘স্ট্র্যাটেজিক অ্যাসেট’ বা কৌশলগত সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পায়রা সমুদ্র বন্দর বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সম্পদ। চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর দেশের ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যের জন্য যথেষ্ট নয়, তাই পায়রা বন্দরের দ্রুত কার্যকরী ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি, কোনো বড় বিনিয়োগ ছাড়াই নীতি-নির্ধারণী সহায়তার মাধ্যমে কুয়াকাটার পর্যটন মূল্যায়নকে কাজে লাগাতে হবে। যা আগামী ৪-৫ বছরের মধ্যে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সম্ভাবনা সৃষ্টি করবে। এতে বৈশ্বিক সংকটের ফলে তৈরি হওয়া রেমিট্যান্সের ঘাটতি পূরণ হবে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক, সমিতির প্রধান পৃষ্ঠপোষক এ কে এম আজিজুর রহমান খান, সংগঠনের উপদেষ্টা এ কে এম মিজানুর রহমান এফসিএ এবং নোভো কার্গো সার্ভিসের এমডি সৈয়দ মুস্তাফিজুর রহমান, বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. ইউনুস আলী সিদ্দিকী, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি ও বরিশাল বিভাগ সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল এবং বরিশাল জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানে দক্ষিণাঞ্চলে সমাজসেবা, শিক্ষা, শিল্প ও ব্যাংকিং খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ৭ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে গুণীজন সম্মাননা পদক (মরণোত্তরসহ) প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানটি যৌক্তিকভাবে সঞ্চালনা করেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর ছিদ্দিক সোহেল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন