প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বরিশাল সদর উপজেলায় কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে চারা, বীজ ও সার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির উপস্থিত হতে বিলম্বের কারণে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের প্রায় পৌনে ৬ ঘণ্টা পর প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন বরিশাল সদর আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরওয়ার। সকাল ৯টার অনুষ্ঠানে দুপুর ২টা ৪৬ মিনিটে তিনি পৌঁছালে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান অপেক্ষমাণ শত শত কৃষক। দীর্ঘ ভোগান্তির মুখে অনেকে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন, আর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিব্রতবোধ করেন উপস্থিত সরকারি কর্মকর্তারাও।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদের হলরুমে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের খরিপ-২ মৌসুমে এ প্রণোদনা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৯টায় অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা থাকলেও চন্দ্রমোহন, চরমোনাই, জাগুয়া ও টুঙ্গিবাড়িয়া ব্যতিরেকে সদর উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন থেকে ৩৫০ থেকে ৪০০ জন কৃষক সকাল ৮টা থেকেই হলরুমে এসে উপস্থিত হন। তবে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রধান অতিথি বেলা ২টা ৪৬ মিনিটে অনুষ্ঠানস্থলে এসে পৌঁছান।
পাঁচ-ছয় ঘণ্টা ধরে অপেক্ষার পর ক্ষোভ প্রকাশ করেন চরবাড়িয়া ইউনিয়নের কৃষক বাবুল আকন, সেকান্দার আকন, মো. সুরুজ, সফিকুল ইসলাম ও মো. আরাফাত। তারা বলেন, "সকাল ৯টা থেকে আমাদের বসিয়ে রাখা হয়েছে। এভাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করিয়ে ভোগান্তিতে ফেলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।"
রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের কৃষক শাজাহান, মালেক, রিয়াজ ও আতাউল বলেন, "আমরা দিন আনি দিন খাই। সামান্য কিছু কৃষি উপকরণ পাওয়ার আশায় এসে পুরো একটি কর্মদিবস নষ্ট হলো। এমপি সাহেব সময়মতো আসতে না পারলে আগেই তো জানানো উচিত ছিল।"
কাশিপুর ইউনিয়নের কৃষক দেলোয়ার জানান, বারবার বলা হচ্ছিল 'আর কিছুক্ষণ পরই আসবেন'। কিন্তু অপেক্ষা করতে করতে দুপুর গড়িয়ে যায়। ফলে অনেকে বিরক্ত হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনুষ্ঠানে উপস্থিত একাধিক কৃষি কর্মকর্তা জানান, অনুষ্ঠানটির সময় আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল। সকাল থেকেই সংসদ সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে বারবার বলা হয় তিনি আসছেন। এক কর্মকর্তা বলেন, "কৃষকদের ক্ষোভের মুখে আমাদের পড়তে হয়েছে। সরকারি চাকরি করি বলে কিছু বলতে পারি না। দীর্ঘ অপেক্ষায় অনেকেই কাজ ফেলে এসেও খালি হাতে ফিরে গেছেন।
স্থানীয় ও সচেতন মহলের মতে, সরকারের এই কৃষিবান্ধব উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয় হলেও অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কারণে এর মূল উদ্দেশ্য ম্লান হয়ে যাচ্ছে। জনপ্রতিনিধিদের সময়ানুবর্তিতা জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতারই প্রতিফলন। সাধারণ মানুষকে এভাবে দীর্ঘ সময় বসিয়ে রাখলে সেবার মান ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
স্থানীয় সাংবাদিকদের অভিযোগ, বরিশালে সংসদ সদস্য মজিবর রহমান সরওয়ারের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বিলম্বে পৌঁছানো নতুন কিছু নয়। এর আগের দিন (২২ জুলাই) বরিশাল জিলা স্কুলে অনুষ্ঠিত প্রথম বার্ষিক মেধা পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানও নির্ধারিত সময়ের প্রায় দুই ঘণ্টা পর শুরু হয়। প্রতিনিয়ত এ ধরনের বিলম্বের কারণে শিক্ষার্থী, কৃষক ও সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
বিলম্ব ও অব্যবস্থাপনার বিষয়ে বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. ফরিদা সুলতানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
অন্যদিকে, দীর্ঘ বিলম্বের কারণ জানতে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরওয়ারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
দিনশেষে কৃষকদের একটিই আকুতি—"সাধারণ মানুষের সময়ের কি কোনো মূল্য নেই?" ভবিষ্যতে সরকারি কর্মসূচিতে নির্ধারিত সময় মেনে চলে জনপ্রতিনিধিরা সাধারণ মানুষের সময়, শ্রম ও জীবিকার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবেন বলে প্রত্যাশা তাঁদের।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন