প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতে ইউপিআইয়ের মাধ্যমে টাকা পরিশোধের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে চলেছে। দুই হাজার টাকার বেশি নির্দিষ্ট ব্যবসায়ী লেনদেনে এবার মাশুল কাঠামো কার্যকর হতে যাচ্ছে। জাতীয় পেমেন্ট সংস্থা জানিয়েছে, আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে এই ব্যবস্থা চালু হবে।
এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, আমেরিকার বড় পেমেন্ট সংস্থাগুলোর চাপের কাছে নতি স্বীকার করেই ইউপিআইয়ের এতদিনের শূন্য মাশুল নীতিতে পরিবর্তন আনার পথ তৈরি করা হয়েছে।
রাহুল গান্ধী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বার্তায় অভিযোগ করেন যে, কেন্দ্রীয় সরকার চুপিসারে ইউপিআইয়ের ওপর মাশুল বসানোর রাস্তা তৈরি করেছে। তার দাবি, দুই হাজার টাকার বেশি ব্যবসায়ীদের ইউপিআই লেনদেনের ওপর মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বা ব্যবসায়ী মাশুল বসানো হতে পারে। যদিও এ ধরনের লেনদেনের সংখ্যা মোট ইউপিআই লেনদেনের তুলনায় খুবই কম, তবে এর অর্থমূল্য মোট লেনদেনের বড় অংশের আওতায় পড়ে।
রাহুলের প্রশ্ন, সরকার যদি বলে গ্রাহকের কাছ থেকে সরাসরি কোনো মাশুল নেওয়া হবে না, তাহলে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নেওয়া অতিরিক্ত অর্থের বোঝা শেষ পর্যন্ত কে বহন করবেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, ব্যবসায়ীরা যদি অতিরিক্ত খরচের মুখে পড়েন, তাহলে পণ্যের দাম বাড়িয়ে সেই অর্থ সাধারণ মানুষের কাছ থেকেই আদায় করা হতে পারে।
রাহুল আরও অভিযোগ করেন যে, আমেরিকার বড় পেমেন্ট সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে ভারতের শূন্য মাশুল নীতির বিরোধিতা করে আসছে। তিনি অভিযোগ করেন যে, ভারত আমেরিকার চাপের কাছে নতি স্বীকার করছে। তবে এসব রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেসের রাজনৈতিক অভিযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকার এই অভিযোগের সঙ্গে একমত নয়।
কেন্দ্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ইউপিআইয়ের ব্যক্তিগত লেনদেন সম্পূর্ণ বিনা মাশুলে থাকবে। অর্থাৎ একজন ব্যক্তি অন্য ব্যক্তিকে যত টাকাই পাঠান না কেন, তার জন্য কোনো মাশুল দিতে হবে না। দুই হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যবসায়ীদের দেওয়া অর্থও বিনা মাশুলে থাকবে। ছোট ব্যবসায়ীদের জন্যও শূন্য মাশুলের ব্যবস্থা বহাল থাকবে।
সরকারের হিসাবে, প্রায় ৯৬ শতাংশ ব্যবসায়ীভিত্তিক ইউপিআই লেনদেন এর ফলে প্রভাবিত হবে না। তবে নির্দিষ্ট ব্যবসায়ী লেনদেনে দুই হাজার টাকার বেশি অর্থের ক্ষেত্রে নতুন মাশুল কাঠামো কার্যকর হচ্ছে।
জাতীয় পেমেন্ট সংস্থার ঘোষণা অনুযায়ী, সাধারণ ক্ষেত্রে এই মাশুল ০.৪ শতাংশ হতে পারে এবং একটি লেনদেনে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা পর্যন্ত সীমা থাকবে। রেল, জ্বালানি, টেলিযোগাযোগ ও বিমার মতো কয়েকটি ক্ষেত্রে আলাদা নির্দিষ্ট মাশুলের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এই মাশুল সরাসরি গ্রাহকের কাছ থেকে নেওয়ার কথা নয়।
সরকারের বক্তব্য, ইউপিআই ব্যবস্থার পরিকাঠামো, নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের খরচ সামলাতেই এই কাঠামো আনা হয়েছে। ফলে একদিকে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত লেনদেন বিনা মাশুলে রাখার দাবি করছে কেন্দ্র, অন্যদিকে বেশি অঙ্কের ব্যবসায়ী লেনদেনে মাশুল চালুর সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও তীব্র হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন