প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কানাডায় ভিসা আবেদনে জালিয়াতির অভিযোগে দুই শতাধিক বাংলাদেশি নাগরিকের নাম উঠে এসেছে। কানাডা বর্ডার সার্ভিস এজেন্সির ( সিবিএসএ ) তদন্তে ২০৯ জন বাংলাদেশির জন্য ২৪৩টি অস্থায়ী বসবাসের ভিসা (টিআরভি) আবেদনের তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে পাঁচজনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সিবিএসএ-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ২২ অক্টোবর রাশেল মির্জা, মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, মো. মুদাসসার আলম ভূঁইয়া এবং কাজী নাফিজ আলম ভ্যালিফিল্ড আদালতে হাজির হন। অপর অভিযুক্ত মো. রাকিবুল হাসান বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন, এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
সিবিএসএ জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ৩ জুলাই কুইবেকের মার্সিয়ে এলাকায় একটি ব্যক্তিগত বাসায় বসবাসকারীদের বিষয়ে তদারকিমূলক অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় সংস্থাটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে মার্সিয়ে পৌর পুলিশের সদস্য ও ফায়ার সার্ভিসের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। অভিযানে কানাডার অভিবাসন ও শরণার্থী সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের কিছু আলামত পাওয়ার পর আগস্টে অভিযুক্তদের কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত শুরু হয়।
তদন্তে দেখা যায়, ২০৯ জন বাংলাদেশির জন্য ২৪৩টি অস্থায়ী বসবাসের ভিসার (টিআরভি) আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। এসব আবেদনে কানাডার নাগরিকদের আমন্ত্রণকারী বা আতিথ্যদাতা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল। তদন্তকারীদের দাবি, জাল নথি ও মিথ্যা তথ্য ব্যবহার করে বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা পাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে একটি সুপরিকল্পিত জালিয়াতি ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ৩ জুন কুইবেক ও অন্টারিওর চারটি স্থানে সিবিএসএ-এর তদন্তকারীরা তল্লাশি চালায়। তল্লাশিতে সংগৃহীত নথিপত্র ও কম্পিউটার সরঞ্জামসহ বিভিন্ন আলামতে পাঁচ ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়। জালিয়াতির ব্যাপকতা ও জটিলতার কারণে তদন্তকারীরা ৭৯টি গুরুত্বপূর্ণ ভিসা আবেদনকে বিশেষভাবে যাচাইয়ের আওতায় আনেন।
যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। এগুলো হলো—
১. এক বা একাধিক ব্যক্তিকে কানাডায় প্রবেশে সহায়তা বা এ-সংক্রান্ত ব্যবস্থা করতে ষড়যন্ত্র করা।
২. অভিবাসন আবেদনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন বা ভুলভাবে উপস্থাপনের কাজে জেনেশুনে কাউকে প্ররোচিত করা, সহায়তা করা বা মদত দেওয়া।
৩. অভিবাসন আইন লঙ্ঘনে জেনেশুনে কাউকে প্ররোচিত করা, সহায়তা করা বা মদত দেওয়া।
তবে এসব অভিযোগ আদালতে এখনো প্রমাণিত হয়নি। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
আরএ
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন