প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
উত্তরপ্রদেশের সোনভদ্র জেলার দুদ্ধি তহসিলের বাঘারু গ্রামে ২০০৩ সালে মুসলিম ভোটারের সংখ্যা ছিল ৪৩০ জন। ২০২৬ সালে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯০২ জনে, যা আগের তুলনার ভিত্তিতে প্রায় ১১০ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে। একই সময়ে হিন্দু ভোটারের সংখ্যা ২,৮৬৪ থেকে বেড়ে ৩,৬২১ জনে পৌঁছেছে, অর্থাৎ বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ২৯ শতাংশ।
বাঘারু গ্রামে ২০০৩ সালে মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল ৩,২৯২, যা ২০২৬ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪,৫২৩-এ। জেলা নির্বাচন দপ্তর তাদের ওয়েবসাইটে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) ২০২৬-এর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে। একই ধরনের পরিবর্তনের খবর পাওয়া গেছে রবার্টসগঞ্জ তহসিলের পানৌরা গ্রাম থেকেও।
ভোটার তালিকার তথ্য অনুযায়ী, ২০০৩ সালে পানৌরায় ৩৫৯ জন মুসলিম এবং ৩৮০ জন হিন্দু ভোটার ছিলেন। ২০২৬ সালে মুসলিম ভোটারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৯৬ জনে, যা ৩২.৬ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে। অন্যদিকে, হিন্দু ভোটারের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৪০৩ জন, যা প্রায় ৮ শতাংশ বৃদ্ধি। একই সময়ে ওই গ্রামে মোট নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা ৭৩৯ থেকে বেড়ে ৮৯৯-এ পৌঁছেছে।
ভোটার সংখ্যা বৃদ্ধির এই পরিবর্তন স্বতঃসিদ্ধভাবে এর কারণ নির্দেশ করে না। নতুন ভোটার নিবন্ধন, অভিবাসন (পরিযায়ন), মৃত্যু, তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো বিভিন্ন কারণে ভোটার তালিকায় পরিবর্তন আসতে পারে। জেলা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভোটার সংখ্যা বৃদ্ধির পেছনের মূল কারণগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ভোটার তালিকার এই তুলনামূলক হিসাবের পাশাপাশি উভয় গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধও সামনে এসেছে। স্থানীয় একাধিক প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে যে, গ্রামের বাইরের কিছু লোক বিতর্কিত লেনদেনের মাধ্যমে আদিবাসী ও অন্যান্য সংরক্ষিত জমি নিজেদের নামে হস্তগত করেছে।
বাঘারু গ্রামে তফসিলি উপজাতির জমি হস্তান্তরের একটি মামলায় প্রশাসন ইতিমধ্যেই ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। জেলা শাসক আলোচিত গৌর জানিয়েছেন, বেশ কিছু জমি লেনদেনে অনিয়ম ধরা পড়েছে এবং বিষয়টি এলাহাবাদ হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে।
সম্প্রতি এলাহাবাদ হাইকোর্ট দুদ্ধির ডেপুটি কালেক্টরের দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে দায়ের করা একাধিক আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। আদালত কিছু জমি হস্তান্তর বাতিল ঘোষণা করে প্রশাসনের দেওয়া সিদ্ধান্তকে বহাল রেখেছে এবং ওই জমি সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে।
এই মামলায় আদালতের নথিতে ‘নাহকি ওরফে নাইমুন্নিসা’ নামে চিহ্নিত এক নারীর ভূমিকা খতিয়ে দেখা হয়েছে। ওই জমি লেনদেনের সময় তিনি ভুইয়া তফসিলি উপজাতির সাথে নিজের পরিচয় ও সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন কি না, তা পরীক্ষা করে দেখে উচ্চ আদালত।
হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে জানায় যে, এই নির্দিষ্ট পরিস্থিতে শুধুমাত্র একটি তফসিলি উপজাতির (এসটি) সনদপত্রই কোনো ব্যক্তির ধারাবাহিক আদিবাসী পরিচয় প্রমাণের জন্য যথেষ্ট নয়। আদালত আদিবাসী সম্প্রদায়ের সাথে ধারাবাহিক সামাজিক যোগাযোগ, তাদের আচার-অনুষ্ঠান ও জীবনযাত্রার মতো বিষয়গুলো বিবেচনা করে।
গত ২২ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে বিতর্কিত জমি হস্তান্তর সম্পর্কিত ডেপুটি কালেক্টরের দেওয়া নির্দেশ বহাল রাখে হাইকোর্ট।
এদিকে, সোনভদ্র জেলা প্রশাসন জানিয়েছে যে বাঘারু ও পানৌরা গ্রামের জমির রেকর্ড এবং সংশ্লিষ্ট মামলাগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর পাশাপাশি ভোটার সংখ্যার এই বড় ধরনের পরিবর্তনের পেছনের কারণগুলোও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করা হবে বলে প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন