প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকিরের খুলনা সফরের দিন নগরী ও জেলায় তিন দফা গুলির ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে তেরখাদায় গুলিবিদ্ধ হন যুবদল নেতা। আইজিপি খুলনা ত্যাগ করার পর সন্ধ্যা ৭টার দিকে নগরীর দক্ষিণ টুটপাড়ায় গুলিবিদ্ধ হন এক ব্যবসায়ী। এর আড়াই ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর বাবুখান রোডে সন্ধানী ক্লিনিকের নিচতলার রিসেপশন লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে একদল দুর্বৃত্ত। হামলার সময় ক্লিনিকের কয়েকটি কক্ষে ও ক্যাশ কাউন্টারে ভাঙচুর চালানো হয়। হামলায় ক্লিনিকের একজন কর্মী সামান্য আহত হন এবং এক কর্মীর মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
একই দিনে ধারাবাহিক এসব গুলির ঘটনায় নগরী ও জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বেলা ১১টার দিকে তেরখাদা উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের পারহাজী গ্রামে দুর্বৃত্তদের গুলিতে যুবদল নেতা রামিম বিশ্বাস (৩২) আহত হন। ওই সময় খুলনায় পুলিশের আইজিপি আলী হোসেন ফকির উপস্থিত ছিলেন।
এরপর সন্ধ্যা ৭টার দিকে নগরীর দক্ষিণ টুটপাড়া ২ নম্বর ক্রস রোডের গাছতলা মন্দিরের সামনে দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত হন মুদি দোকানদার ধনঞ্জয় কুন্ডু ওরফে আকাশ কুন্ডু (৪৫)। তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
সর্বশেষ রাত সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর বাবুখান রোডের সন্ধানী ক্লিনিকে হামলা ও গুলির ঘটনা ঘটে। ক্লিনিক সূত্রে জানা গেছে, রাত সাড়ে ৯টার দিকে ১০ থেকে ১২ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি ক্লিনিকের নিচতলায় প্রবেশ করে। এসময় তারা চিকিৎসক কুতুব উদ্দিন ও চিকিৎসক শেখ মোজাম হোসেনের কক্ষ এবং রিসেপশনের ক্যাশ কাউন্টারে ভাঙচুর চালায়। এক পর্যায়ে তারা এক রাউন্ড গুলি ছোড়ে।
হামলায় ক্লিনিকের রিসেপশনে কর্মরত বিশ্বজিৎ (২৫) সামান্য আহত হন। তাঁর বাবার নাম সুরেশ রায়। তিনি খুলনার দাকোপ উপজেলার চুনকুড়ি এলাকায় থাকেন এবং বর্তমানে খুলনা নগরীর গফফারের মোড় এলাকায় বসবাস করছেন।
এছাড়া ক্লিনিকের আরেক কর্মী ইকবাল হোসেনের (৩০) ব্যবহৃত একটি মুঠোফোন দুর্বৃত্তরা নিয়ে যায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাঁর বাড়ি পাইকগাছা উপজেলার খড়িয়া গ্রামে। তিনি নগরীর টুটপাড়া বালিরমাঠ এলাকার এপি ২ নম্বর ক্রস রোডে অবস্থান করেন।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে ক্লিনিকের মালিকপক্ষের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। তবে এ বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কেএমপির খুলনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লোকমান হোসেন ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেন, দুর্বৃত্তরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে ক্লিনিক লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।
তবে ক্লিনিকের ভেতরে ১০ থেকে ১২ জনের প্রবেশ, ভাঙচুর, একজনের সামান্য আহত হওয়া এবং মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়ার বিষয়ে পাওয়া তথ্যের সঙ্গে পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্যের কিছু পার্থক্য রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের একজন কর্মী জানান, কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই দুটি মোটরসাইকেলে ৬ জনের একটি দল এসে ক্লিনিকের বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে চলে যায়। তিনি হামলার কারণ জানতে পারেননি।
অন্য একজন চিকিৎসকের সহকারী বলেন, অন্য একটি ক্লিনিক থেকে রোগী দেখে তিনি সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের সঙ্গে সন্ধানীর দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে হামলার খবর পেয়ে তারা আর অগ্রসর হননি। পরে উক্ত চিকিৎসকসহ অন্যান্য চিকিৎসকের জন্য আসা রোগীরাও ডাক্তার না দেখিয়ে দ্রুত ক্লিনিক ত্যাগ করেন।
এদিকে, একই দিনে তেরখাদা ও খুলনা নগরীতে তিন দফা গুলির ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানে ঢুকে ভাঙচুর ও গুলি ছোড়ার ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন