প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফ্রান্সের পুলিশ কিলিয়ান এমবাপ্পে সহ রিয়াল মাদ্রিদের ফুটবল তারকারা এবং বেশ কয়েকজন ধনকুবেরকে অপহরণের পরিকল্পনার অভিযোগে ১৮ বছরের এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে। ওই তরুণের নাম ক্লিমেন্ট এল, যিনি জেলখানায় বন্দি অবস্থায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম স্ন্যাপচ্যাট ব্যবহার করে নিজের গ্যাং পরিচালনা করছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
বর্তমানে মানবপাচার ও সশস্ত্র ডাকাতির মামলায় কারাগারে বন্দি থাকা ক্লিমেন্ট ‘লেস্টার জেড’ ছদ্মনামে এই নেটওয়ার্কটি চালাতেন। পুলিশ তার কাছ থেকে জব্দ করা দুটি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মোট ২৬ জন হাই-প্রোফাইল ব্যক্তির নাম ও ঠিকানা উদ্ধার করেছে। এই তালিকার মধ্যে সবচেয়ে বড় নাম রিয়াল তারকা এমবাপ্পে, যিনি প্রায় ২০০ মিলিয়ন পাউন্ড সম্পদের মালিক। এছাড়া ধনী ব্যবসায়ী, তুর্কি মাংস ব্যবসায়ী, জুয়েলারি মালিক এবং বেশ কয়েকজন র্যাপারও তাদের টার্গেটের মধ্যে ছিলেন।
ফরাসি সংবাদমাধ্যম ল্য প্যারিসিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের মে মাসে প্যারিসের এক ঘড়ির দোকানে ডাকাতির ঘটনা এই বিশাল ষড়যন্ত্রের জট খুলতে শুরু করে। ক্লিমেন্টের গ্যাংয়ের সশস্ত্র দুই সদস্য সেখানে হামলা চালিয়ে ১ লাখ ২৮ হাজার পাউন্ড মূল্যের ১১টি বিলাসবহুল ঘড়ি লুট করে স্কুটারে পালিয়ে যায়।
পালানোর আধঘণ্টার মাথায় স্কুটারটি এক ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা খেলে দুর্ঘটনাস্থল থেকেই প্রথম আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের পর তদন্তের সূত্র ধরে পুলিশ মূল মাস্টারমাইন্ড ক্লিমেন্ট এবং তার সহযোগীর কাছে পৌঁছায়।
আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে অ্যাডভোকেট জেনারেল জানান, ক্লিমেন্ট একজন বিপজ্জনক অপরাধী, যার আগের রেকর্ডে মাদক ও হিংসাত্মক ডাকাতির সাজা রয়েছে। তিনি আদালতকে বলেন, ‘ছেলেটি ইতোমধ্যে গুরুতর অপরাধে জেল খাটছিল। এখন আবার নতুন করে নামিদামি ফুটবলার ও তারকাদের টার্গেট করার খবর আসছে। কেবল একাকী কারাবাসই (সলিটারি কনফাইনমেন্ট) তাকে অনুতপ্ত করতে পারে।’
স্কুলজীবনেই পড়ালেখা ছেড়ে অপরাধ জগতে পা রাখা ক্লিমেন্ট নিজেকে মূল হোতা বলে মানতে নারাজ।
নিজেকে নিছকই এক ‘মধ্যস্থতাকারী’ দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমি জানি অপরাধ গুরুতর, তবে আমি মূল মাস্টারমাইন্ড নই। আমি শুধু ওপরের নির্দেশে কাজ করেছি।’
আদালতের কাছে নিজের শেফ হওয়ার শৈশবের স্বপ্নের কথা জানিয়ে এই তরুণ আবেদন করেন, ‘আমাকে পাগল ও সন্ত্রাসীদের মাঝে নির্জন কারাবাসে রাখা হয়েছে, এটি আমার জীবনের কোনো পরিবর্তন আনবে না। আমি ছোটবেলা থেকেই শেফ হতে চেয়েছিলাম, এখনো সেই স্বপ্ন পূরণ করতে চাই।’
পুলিশি তদন্তে তার চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তার করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন