প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘সন্ত্রাসের গডফাদার’ আখ্যা দিয়ে ডেভিড ইমন ও মোবারকসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ জানিয়েছেন কাঞ্চননগর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কাশেম চৌধুরী।
তিনি উল্লেখ করেছেন, ডেভিড ইমন ও মোবারকের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্ক নেই। এলাকার একজন ছেলে হিসেবে তাঁকে সালাম ও সম্মান জানালে তাদের অপরাধের সঙ্গে তাঁকে জড়িত করা যায় না। সম্প্রতি কাঞ্চননগরে আয়োজিত মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী সভায় তাঁকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মানহানিকর বক্তব্য দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকালে ফটিকছড়ির কাঞ্চননগর ইউনিয়নের উলিকবাড়ীতে নিজ বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আবুল কাশেম চৌধুরী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ১৯৯৭ সালে জনগণের ভোটে প্রথমবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি এলাকার মানুষের সেবা করেছেন। দায়িত্ব পালনকালে সালিশ-বিচারে কখনো রাজনৈতিক চাপ কিংবা প্রভাবের কাছে নতি স্বীকার করেননি। পরে ২০০৩ সালের নির্বাচনে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে ফটিকছড়িতে দ্বিতীয়বার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। জনগণ তাঁকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছিল বলেই তাঁর প্রতি মানুষের আস্থা ও ভালোবাসার প্রমাণ পাওয়া যায় বলে দাবি করেন তিনি।
আবুল কাশেম চৌধুরী আরও বলেন, আমি ২০০৩ সালের জুলাই মাসে দেশ ছেড়েছিলাম। দীর্ঘ ২১ বছর দেশে ছিলাম না। এই সময়ের মধ্যে কাঞ্চননগরে যদি সন্ত্রাসের রাজত্ব, আমার কোনো বাহিনী কিংবা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চলত, তাহলে তার প্রমাণ কোথায়? আমি কোনো সংঘাত চাই না। সবার সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করতে চাই।
নিজের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা প্রসঙ্গে সাবেক এই চেয়ারম্যান বলেন, অতীতে তাঁকে একাধিক মামলায় আসামি করা হয়েছিল। তাঁর দাবি, সেসব মামলার অধিকাংশ থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন। বর্তমানে একটি মামলায় তিনি অভিযুক্ত রয়েছেন, তবে এখনো সাজাপ্রাপ্ত হননি। বিচারাধীন মামলায় আদালতের মাধ্যমেই তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলে আবুল কাশেম চৌধুরী বলেন, অতীতে রাজনৈতিক কারণে তাঁকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়েছে। বর্তমানে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করায় তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন। তাঁর ভাষায়, আমি নির্বাচনে আসব বলার পরই অনেকে আমাকে খারাপ বলতে শুরু করেছেন। আমি বিশ্বাস করি, জনগণই নির্বাচনে প্রমাণ করবেন তারা আমাকে চান কি না। একজনকে বদনাম করে কিংবা হেয় করে কেউ বড় হতে পারে না।
তিনি বলেন, আমি কট্টর রাজনীতিবিদ নই। ২০০৩ সালে বিএনপি থেকে মনোনীত হয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলাম। বিএনপির সিনিয়র নেতারাও আমাকে চেনেন। আমি কোনো সংঘাত বা প্রতিহিংসার রাজনীতি চাই না। এলাকার মানুষের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করতে চাই।
সংবাদ সম্মেলনে আবুল কাশেম চৌধুরী তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সভা, সমাবেশসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে আসন্ন নির্বাচনে সবার অংশগ্রহণের সুযোগ ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
সংবাদ সম্মেলনে এলাকার শত শত মানুষ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন