প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার আদিত্যপুর ও আব্দাফৌজদা গ্রাম উভয়ের পূর্ব বিরোধের কারণে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এর জেরে সেলু মিয়া (৫৫) ও হেলাল মিয়া (৩৮) নামে দুজন নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন।
সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে মাইকিংয়ের মাধ্যমে দুপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে স্থানীয় আদিত্যপুর হাওরে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে এলাকার মানুষদের সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সন্ধ্যার পর ফের সংঘর্ষের মাধ্যমে দুজন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটে।
এছাড়া দেশীয় অস্ত্র এবং ইটপাটকেলের আঘাতে কদর আলী (৭০), লুৎফুর রহমান (৩০), আতাউর রহমান (২৫), কুহিনুর (৪১), জাহিদ মিয়া (৫৫), রিমন (১৮), অলফুজ মিয়া (৫০), খলিল মিয়া (৩০), সুহেল মিয়া (৩০), হাবিব মিয়া (২৫), সিমন (১৮) ও হান্নানসহ (৫০) অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন।
এই আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতাল এবং একজন নারীকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাহুবল উপজেলার ৩নং সাতকাপন ইউনিয়নের আদিত্যপুর গ্রামের মর্তুজা মিয়ার ছেলে আক্তার মিয়া ও নাসির মিয়ার সঙ্গে কবরস্থানে বেড়া দেওয়ার কারণে আরিছপুর গ্রামের মিলন মিয়া, হারিছ মিয়ার ছেলে সারু মিয়া ও এখলাছ মিয়াদের মাঝে প্রায় দুই মাস আগে মারামারির ঘটনা ঘটে। একই ঘটনার জেরে গত শুক্রবার (১২ জুন) দুপক্ষের মধ্যে ফের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সোমবার দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে মাইকিং করে দুপক্ষের লোকজন স্থানীয় আদিত্যপুর হাওরে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। খবর পেয়ে তাত্ক্ষণিকভাবে বাহুবল মডেল থানার একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
এরপর সন্ধ্যায় স্থানীয় ডুবাঐ বাজারে এলাকায় পুনরায় সংঘর্ষ শুরু হয়। এই সংঘর্ষের ফলস্বরূপ গুরুতর আহত সেলু মিয়া ও হেলাল মিয়াকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় আরেকজনের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। ঘটনাটি ঘটে যাওয়ার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজমান।
এ বিষয়ে বাহুবল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, "দুপুরের সংঘর্ষের পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সন্ধ্যার পর উভয় পক্ষ থানায় আসার কথা ছিল সমাধানের জন্য। তবে পরে সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটে। পুলিশ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন