প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বারপাখিয়া দাখিল মাদরাসার পাশে অবস্থিত পোল্ট্রি মুরগির খামারের দুর্গন্ধে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। বিকট দুর্গন্ধের কারণে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এ কারণে মাদরাসার সুপারসহ শিক্ষকেরা অভিযোগ করেছেন যে, বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষের বাইরে পাঠদান করতে হচ্ছে।
বারপাখিয়া গ্রামের এক প্রবাসীর স্ত্রী মলিনা বেগম তার বাড়ির পাশে পোল্ট্রি মুরগির খামার গড়ে তুলেছেন। খামারটি মাদরাসার নিকটবর্তী হওয়ার ফলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিয়মিত দুর্গন্ধের শিকার হতে হচ্ছে। পড়ালেখার পরিবেশ ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। এমনকি শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার আশঙ্কাজনকভাবে কমতে শুরু করেছে।
মাদরাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মুরসালি জানান, "দুর্গন্ধে শ্রেণিকক্ষে পড়াশোনা করতে আমাদের খুব কষ্ট হচ্ছে। বাতাসে সবসময় দুর্গন্ধ ভেসে বেড়ায়, যা নাকে আসামাত্রই এক ধরনের অস্বস্তি কাজ করে।" তিনি আরও বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে এই অবস্থার বিরাজমান থাকলেও কোনো সমাধান মিলছে না।
মাদরাসার সুপার আবুল কালাম আজাদ বলেন, "এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) স্যারকে আমরা জানিয়েছি। তিনি আমাদেরকে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার জন্য বলেন। আমরা সেখানে লিখিত অভিযোগ দিলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সামাজিকভাবে চেষ্টা করেও আমরা ব্যর্থ হয়েছি।" তিনি জানান, প্রচণ্ড দুর্গন্ধের কারণে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিকভাবে ক্লাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে খামারি মলিনা বেগম জানান, তিনি অল্প পরিমাণে পোল্ট্রি মুরগি পালন করেন এবং এক মাস বয়স হলে মুরগিগুলো বিক্রি করে দেন। তিনি আরও বলেন, "প্রথম ২০ দিন খামারে তেমন কোনো দুর্গন্ধ থাকে না; শেষের দিকে প্রায় ১০ দিন কিছুটা দুর্গন্ধ হয়। এ সময়টুকু শিক্ষার্থীরা সহ্য করলে কী এমন হয়।"
শিক্ষার্থীদের কয়েকজন অভিভাবক মন্তব্য করেন, "কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশে এ ধরনের পোল্ট্রি খামার থাকা কাম্য নয়। দুর্গন্ধের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটছে।" তারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে খামারটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানান।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, "মাদরাসা থেকে শিক্ষকরা আমার কাছে এসেছিলেন। বর্তমানে বিষয়টি কী পর্যায়ে আছে তা খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।"
ঝিনাইদহ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক কমল কুমার বর্মন এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটিতে গিয়ে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসন বিষয়টি তদন্ত করে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক ও স্বাস্থ্যকর শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন