প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো নিজ নির্বাচনী এলাকা ভোলায় সফর করেছেন ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। দীর্ঘ আট বছর পর ভোলা থেকে মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়ায় জেলাজুড়ে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়েছে। তাকে স্বাগত জানাতে শহরের বিভিন্ন মোড়ে ফুল হাতে অপেক্ষা করেছেন দলীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ।
বুধবার দুপুর ১টার দিকে বরিশাল হয়ে স্পিডবোটে ভোলার খেয়াঘাট লঞ্চঘাটে পৌঁছান মন্ত্রী পার্থ। সেখানে জেলা প্রশাসক শামীম রহমান, পুলিশ সুপার শহীদুল্লাহ কাওসার, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক আলহাজ্ব গোলাম নবী আলমগীর, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রাইসুল আলম, জেলা বিজেপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম রতন, সাবেক মেয়র শফিউর রহমান কিরন, হুমায়ুন কবির সোপানসহ বিএনপি ও বিজেপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা তাঁকে স্বাগত জানান। পরে ফুল দিয়ে তাঁকে বরণ করে নেওয়া হয়।
পার্থের আগমনকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই ভোলা শহর ও আশপাশের এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। বিভিন্ন মোড়ে ফুল হাতে অবস্থান নেন নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ। দীর্ঘদিন পর ভোলা থেকে মন্ত্রী হওয়ার ফলে জেলার মানুষের মধ্যে আনন্দের পাশাপাশি উন্নয়ন নিয়ে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, আন্দালিব রহমান পার্থের মন্ত্রিত্বের সময়ে জেলার যোগাযোগব্যবস্থা, অবকাঠামো ও নাগরিক সুবিধার উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে। বিশেষ করে ভোলার দীর্ঘদিনের যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত সমস্যাগুলোর সমাধানে তাঁর ভূমিকা রাখার আশা করছেন তাঁরা।
নতুন বাজারের জেলা বিজিপির কার্যালয়ের সামনে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে পার্থ দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, তাঁর পরিবারের কেউ টেন্ডারবাজি বা চাঁদাবাজির সঙ্গে যুক্ত নন। ভোলার উন্নয়নে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, "ভোলা বরিশাল সেতু নিয়ে ভোলার সকল মানুষ আন্দোলন করেছে। এটা ভোলাবাসীর প্রাণের দাবী।" ভোলাকে দেশের মূল ভূখণ্ডের সাথে সংযুক্ত করতে সরকার বিশেষ পরিস্থিতিতে পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। ভোলা বরিশাল সেতু নিয়ে কেউ বিভ্রান্ত করবেন না। "আমরা সরকারে আছি ভোলার উন্নয়নে ভোলাবাসীকে সাথে নিয়ে ভোলার যেভাবে সুবিধা হবে, দেশের যেভাবে সুবিধা হবে সেভাবেই কাজ করতে হবে।" সরকারের একটি নিজস্ব পরিকল্পনা রয়েছে। ভোলার উন্নয়নে অনেক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। ভোলায় মেডিকেল কলেজ হবে, নদী ভাঙ্গন রোধে ৭ শ কোটি টাকা বরাদ্ধ করা হয়েছে, রাস্তা ঘাট উন্নয়নেও কাজ হবে। বিগত সরকার দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে। তারেক রহমানের সরকার ক্ষমতায় আসছে মাত্র কিছুদিন হলো। "একটা কঠিন সময়ে তিনি দেশের দায়িত্ব নিয়েছেন। দেশের জনগণের কল্যাণে তার অনেক পরিকল্পনা রয়েছে।"
এক্ষেত্রে একটু সময় দিতে হবে। সরকার যা করে তা দেশ ও জনগণের কল্যাণেই করে। তাঁর সঙ্গে সবাই থাকলে এবং আল্লাহ চাইলে ভোলায় সবচেয়ে বেশি উন্নয়নমূলক কাজ করার চেষ্টা করবেন। উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে বিরোধী দল, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলনসহ সব পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চান বলেও জানান তিনি। কাউকে বাদ না দিয়ে ভোলার উন্নয়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, "ভোলায় কোন কাটা কাটি মারা মারি, টেন্ডারবাজী, সন্ত্রাসী হতে দেয়া যাবে না। আমি একমাত্র আল্লাহর উপর ভরসা করে আপনাদের সহযোগিতা নিয়ে কাজ করতে চাই।" আপনারা আমার পাশে ছিলেন বিদায় আমি মাত্র ১২ দিন নির্বাচন করে এমপি হয়েছি। "আমি কথা দিলাম আমি কোন মন্ত্রী এমপি হিসেবে নয় আমি আপনাদের মন্জু মিয়ার ছেলে হিসেবে থাকতে চাই।" টিআর, জিআর, কাবিখা আমার বংশের কেউ খায় না। আমার কোন ভাগ্নে ভাতিজা নাই। কোন সন্ত্রাসী বাহিনী নাই। ভোলা হবে শান্ত ও উন্নয়নের জেলা। তাকে মন্ত্রী করায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে যে দায়িত্ব দিয়েছেন, তা যথাযথভাবে পালনের জন্য সবার কাছে দোয়া ও সহযোগিতা চান পার্থ। একই সঙ্গে তাঁর বাবা নাজিউর রহমান মঞ্জুর নাম ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ধরে রাখার জন্যও সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
উল্লেখ্য, ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থের বাবা বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত নাজিউর রহমান মঞ্জু ভোলার রাজনীতি ও ভোলার উন্নয়নে দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। স্থানীয়ভাবে ভোলার উন্নয়নে তাঁর ভূমিকার কারণে তিনি ‘ভোলার উন্নয়নের রূপকার’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন। বাবার সেই রাজনৈতিক ও উন্নয়নমূলক ভূমিকার ধারাবাহিকতা ধরে রেখে পার্থও ভোলার মানুষের পাশে থাকবেন এমন প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় নেতা-কর্মী ও বাসিন্দাদের অনেকে। পরে মন্ত্রী হিসেবে আন্দালিব রহমান পার্থকে তার নিজ বাসভবনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। বিকেলে আন্দালিব রহমান পার্থ তচর গ্রামের বাড়ি দক্ষীন দিঘলদিতে তার বাবা প্রয়াত নাজিউর রহমান মঞ্জুর করব জিয়াতের কথা রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন